ন্যাশনাল বি এন এঞ্জেল ডে: একটু ভালোবাসাই হোক কারও জীবনের আলো

প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

দেবদূত বলতেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে সাদা পোশাক, পিঠে একজোড়া সাদা ডানা আর আকাশ থেকে নেমে আসা কোনো এক অলৌকিক সত্তার ছবি।কিন্তু সত্যিই কি দেবদূত হতে হলে ডানা থাকা জরুরি? হয়তো নয়। কারণ পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর কিছু দেবদূত কখনো আকাশ থেকে আসেন না।


কেউ কেউ মানুষের মতোই আমাদের পাশে হাঁটে, বিপদের সময় হাত বাড়িয়ে দেয়, কিংবা নিঃশব্দে এমন কিছু করে যায়; যা হয়তো কারও পুরো দিনটাই বদলে দিতে পারে। 


প্রতিবছর ২২ আগস্ট পালিত হয় "ন্যাশনাল বি এন এঞ্জেল ডে" (National Be an Angel Day)। এই দিনটি আমাদের অদৃশ্য ডানা মেলে এমন সব সদয় কাজ করার আহ্বান জানায়, যার প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে আমাদের পুরো সমাজে। দিবসটির মূল বার্তা খুবই সিম্পল। নিজের চারপাশের মানুষের প্রতি একটু বেশি সদয় হওয়া, সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া এবং বিনিময়ে কিছু পাওয়ার প্রত্যাশা না করে ভালো কিছু করা।


অনেক সময় আমাদের জীবনে এমন কিছু সময় আসে যা খুব খারাপ কাটে। তা কোনো দুঃসংবাদ বা ভুল পরিকল্পনার কারণেই হোক না কেন, এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি আমরা সবাই হই। এমতাবস্থায় পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন ও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে যা আমাদের মনোবল ভেঙে দেয়।  ঠিক সেই চরম প্রয়োজনের মুহূর্তে একটি সহানুভূতিপূর্ণ কথা, একটি আলিঙ্গন কিংবা মনোরম পরিবেশ—এসবই অনেক বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।


কারও প্রচেষ্টাকে স্বীকৃতি দেওয়া বা তার কাজের প্রশংসা করাও এঞ্জেল হয়ে ওঠার আরেকটি উপায়। তাদের অদম্য মনোবল, প্রতিভা কিংবা অগ্রগতির প্রশংসা করে জানান যে আপনি এতে মুগ্ধ। এভাবে ইতিবাচক মন্তব্য তাদের মনে নতুন উদ্দীপনা ও সাহস জোগায়।


এর শুরুর ইতিহাসটি বেশ রহস্যঘেরা; এর কোনো বিস্তারিত ঐতিহাসিক নথিপত্র পাওয়া যায় না। ১৯৯৩ সালে টেক্সাসের ডেনিসন শহরের বাসিন্দা জেইন হাওয়ার্ড ফার্নাল্ড  এই দিনটির প্রবর্তন করেন। সম্ভবত এটি একটি তৃণমূল পর্যায়ের উদ্যোগ হিসেবে শুরু হয়েছিল, যার লক্ষ্য ছিল অন্যদের প্রতি দয়া ও সদিচ্ছা ছড়িয়ে দেওয়া।


এই দিনটিতে শুধুমাত্র যে অন্যদের প্রতি সদয় হতে  এবং ভালো কাজ করতে আহবান করা হয় তা কিন্তু নয়, পাশাপাশি যাঁরা এমনটা করেন, তাঁদের সম্মান জানানো ও উদযাপন করাও এর মূল উদ্দেশ্য। বলা যায় যে, এই দিনটির তাৎপর্য দ্বিমুখী। একদিকে যেমন অন্যের কাছ থেকে সদয় আচরণ পাওয়া, তেমনি নিজেও অন্যের প্রতি সেই একই আচরণ ফিরিয়ে দেওয়া। অনেকটা ঠিক কর্মফলের মতোই।



কীভাবে উদযাপন করবেন



অন্যের কথা শুনুন: 


যিনি মানসিক চাপে আছেন বা যার কথা কেউ শুনছে না, তাকে ধৈর্য ধরে মন দিয়ে শুনুন।


প্রতিবেশীদের সাহায্য করুন: 


কোনো বয়স্ক বা ব্যস্ত প্রতিবেশীকে বাড়ির উঠোনের কাজ বা বাজার করার মতো কাজে সাহায্য করুন।


উৎসাহ পাঠান: 


কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাওয়া কোনো বন্ধুকে একটি উৎসাহব্যঞ্জক বার্তা বা মেসেজ পাঠান। কাউকে উঠে দাঁড়াতে সাহায্য করুন অথবা তারা আবার নিজের পায়ে না দাঁড়ানো পর্যন্ত তাদের পাশে থেকে সাহস ও সমর্থন জোগাান। 


সহযোগিতা করুন: 


স্থানীয় দাতব্য সংস্থা ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে জিনিসপত্র, সময় বা অর্থ দান করুন।


ইতিবাচকতা ছড়িয়ে দিন: 


কারও উদ্দেশ্যে হয়তো কেবল একটি ভালো কথাই বললেন, তাতেই অনেক কিছু হতে পারে। আপনি জানেন না আপনার সেই কথা বা কাজ কতটা গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। ভুল করা শেখারই একটি অংশ। তাই ভুল ক্ষমা করে দিন এবং তা ভুলে গিয়ে এগিয়ে যান।


অন্য কারো দিনটিকে একটু আনন্দময় করে তোলার জন্য উৎসর্গীকৃত একটি দিন কে না পছন্দ করে? এই দিনটি সবাইকে আরেকটু নিঃস্বার্থ হতে উৎসাহিত করে। কারো মুখে হাসি ফোটানোর এটি একটি চমৎকার সুযোগ; আর সত্যি বলতে, ভালো কাজ করলে নিজের মাঝে এক মানসিক প্রশান্তিও পাওয়া যায়। 


আমরা এমন এক পৃথিবীতে বাস করি, যা মাঝে মাঝে নেতিবাচকতায় পরিপূর্ণ বলে মনে হয়,। সেখানে 'ন্যাশনাল বি অ্যান এঞ্জেল ডে' আশার আলো হয়ে জ্বলে ওঠে। দয়ার প্রতিটি ছোট কাজই সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং পৃথিবীটআকে  আরেকটু সুন্দর ও উপভোগ্য করে তোলে।


ঢাকা/আরএস

sidebar ad