স্ত্রীর প্রশংসা দিবস: একটু প্রশংসা, একটু কৃতজ্ঞতা

প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জুলফিকার আলী ও সুরাইয়া নাজনীন
জুলফিকার আলী ও সুরাইয়া নাজনীন

বিয়ের পর জীবনের অনেকটা পথ একসঙ্গে পেরিয়ে যান দুজন মানুষ। সময়ের সঙ্গে বদলে যায় সংসারের ব্যস্ততা, দায়িত্ব আর সম্পর্কের প্রকাশভঙ্গি। একসময় হয়তো ভালোবাসার কথাগুলো নিয়মিত বলা হয় না, ‘ধন্যবাদ’ শব্দটিও হারিয়ে যায় প্রতিদিনের কাজের ভিড়ে। অথচ সংসার, পরিবার কিংবা জীবনের নানা কঠিন সময়ে পাশে থাকা মানুষটির অবদান অস্বীকার করার সুযোগ নেই। অনেক সময় স্ত্রী হয়ে ওঠেন শুধু জীবনসঙ্গী নন, একই সঙ্গে বন্ধু, পরামর্শদাতা, পরিবারের যত্ন নেওয়া মানুষ এবং কঠিন সময়ে সবচেয়ে নির্ভরতার জায়গা।


হয়তো আপনার বিয়ে হয়েছে এক বছর আগে, কিংবা দশ বছর, এমনকি পঞ্চাশ বছর আগে। সময় যতই পেরিয়ে যাক, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের প্রয়োজন কখনো পুরোনো হয় না। বরং দীর্ঘ দাম্পত্যে ছোট ছোট স্বীকৃতি ও প্রশংসাই সম্পর্ককে আরও উষ্ণ করে তুলতে পারে। তাই আজই হতে পারে প্রিয় মানুষটিকে বলা—‘তুমি আমার জীবনে গুরুত্বপূর্ণ।’


কেন স্ত্রীকে প্রশংসা করা জরুরি?


দাম্পত্য সম্পর্কে প্রশংসা শুধু ভালো লাগার বিষয় নয়, এটি সম্পর্কের যত্ন নেওয়ারও একটি উপায়। একজন মানুষ যখন তার সঙ্গীর কাছ থেকে নিজের কাজ, চেষ্টা কিংবা ব্যক্তিত্বের স্বীকৃতি পান, তখন সম্পর্কের মধ্যে পারস্পরিক মূল্যায়নের অনুভূতি তৈরি হয়।


ভালোবাসার প্রকাশ ঘটে:


অনেক সময় আমরা মনে করি, একসঙ্গে থাকা বা সংসারের দায়িত্ব পালন করাই ভালোবাসার যথেষ্ট প্রকাশ। কিন্তু ভালোবাসা অনুভব করার জন্য তার প্রকাশও প্রয়োজন। ‘তোমাকে পাশে পেয়ে আমি কৃতজ্ঞ’—এমন একটি বাক্যও সঙ্গীর মনে গভীর আনন্দ তৈরি করতে পারে।


অদৃশ্য শ্রমের স্বীকৃতি মেলে:


সংসারের অনেক কাজের কোনো নির্দিষ্ট মূল্যায়ন থাকে না। পরিবারের সদস্যদের দেখাশোনা, সন্তানদের যত্ন, ঘর সামলানো কিংবা কর্মজীবনের পাশাপাশি সংসারের দায়িত্ব পালন—এসব অনেক সময় স্বাভাবিক দায়িত্ব হিসেবে ধরে নেওয়া হয়। প্রশংসা সেই অদৃশ্য শ্রমকে দৃশ্যমান করে।


সম্পর্কে ইতিবাচকতা বাড়ে:


সঙ্গীর ভালো দিকগুলো নিয়ে কথা বলা দাম্পত্যে ইতিবাচক যোগাযোগ তৈরি করতে সাহায্য করে। এতে একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা ও আন্তরিকতা প্রকাশের সুযোগ তৈরি হয়।


মানসিকভাবে কাছে আসা যায়:


প্রশংসা মানে শুধু ‘তুমি সুন্দর’ বলা নয়। সঙ্গীর ধৈর্য, দায়িত্ববোধ, বুদ্ধিমত্তা, সাহস কিংবা কঠিন সময়ে পাশে থাকার বিষয়টিও প্রশংসা করা যায়। এ ধরনের স্বীকৃতি দুজন মানুষের মানসিক দূরত্ব কমাতে পারে।


আজ স্ত্রীর প্রশংসা দিবস


প্রতি বছর সেপ্টেম্বরের তৃতীয় রোববার যুক্তরাষ্ট্রে পালিত হয় স্ত্রীর প্রশংসা দিবস (Wife Appreciation Day)। ২০০৬ সাল থেকে দেশটিতে দিবসটি উদযাপনের তথ্য পাওয়া যায়। পরবর্তী সময়ে দিবসটি বিভিন্ন দেশেও পরিচিতি পেতে শুরু করে।


ডে’জ অব দ্য ইয়ারের তথ্য অনুযায়ী, দিবসটির মূল উদ্দেশ্য হলো স্ত্রীদের প্রতি ভালোবাসা, সম্মান ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। অর্থাৎ দিনটি বড় কোনো আয়োজনের চেয়ে বরং জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মানুষটিকে তার প্রাপ্য স্বীকৃতি দেওয়ার একটি উপলক্ষ।


কীভাবে উদযাপন করবেন?


স্ত্রীর প্রশংসা করতে খুব বড় আয়োজনের প্রয়োজন নেই। তার পছন্দ ও আপনাদের সম্পর্কের ধরন অনুযায়ী ছোট কোনো আয়োজনই হতে পারে বিশেষ।


একটি ফুলের তোড়া:


প্রিয় ফুলের একটি ছোট তোড়া হাতে দিয়ে বলতে পারেন, ‘তোমাকে আমার জীবনে পেয়ে আমি সত্যিই ভাগ্যবান।’


একসঙ্গে সময় কাটানো:


ব্যস্ততার কারণে যদি দীর্ঘদিন কোথাও ঘুরতে যাওয়া না হয়ে থাকে, তাহলে দুজন মিলে কাছাকাছি কোথাও ঘুরে আসতে পারেন। রেস্তোরাঁয় খেতে যাওয়া কিংবা একসঙ্গে সিনেমা দেখাও হতে পারে আনন্দের আয়োজন।


ছোট উপহার:


স্ত্রীর পছন্দের পারফিউম, জুয়েলারি কিংবা অন্য কোনো উপহার দিতে পারেন। উপহারের দাম নয়, বরং তার পছন্দকে মনে রাখা এবং তাকে আনন্দ দেওয়ার চেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ।


আংটি উপহার:


ভালোবাসা ও সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে আংটি দেওয়ার প্রচলন বহু পুরোনো। তাই বিশেষ কোনো আংটি দিয়ে নতুন করে ভালোবাসার কথা জানাতে পারেন।


একটি চিঠি:


সবচেয়ে সহজ অথচ আবেগঘন উপায় হতে পারে একটি চিঠি লেখা। সেখানে বলতে পারেন, জীবনের কোন কোন মুহূর্তে তার পাশে থাকা আপনাকে শক্তি দিয়েছে, তার কোন গুণগুলো আপনার ভালো লাগে এবং কেন তাকে আপনার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মানুষ মনে হয়।


শেষ পর্যন্ত স্ত্রীর প্রশংসা করার জন্য নির্দিষ্ট কোনো দিবসের অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। তবে ব্যস্ত জীবনে একটি বিশেষ দিন আমাদের মনে করিয়ে দিতে পারে—যে মানুষটি প্রতিদিন আমাদের জীবনের অংশ হয়ে আছেন, তাকেও কখনো কখনো আলাদা করে বলা দরকার, ‘তোমার জন্যই আমার জীবনটা আরও সুন্দর।’

sidebar ad