সকালে খালি পেটে কাঁচা হলুদ মিশ্রিত পানি খাওয়ার প্রবণতা অনেকের মধ্যেই দেখা যায়। অনেকে এটিকে ‘ডিটক্স ওয়াটার’ হিসেবে মনে করেন। হলুদের প্রধান সক্রিয় উপাদান কারকিউমিন, যার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণা হয়েছে। তবে কাঁচা হলুদ-পানি খেলেই শরীরের সব ‘টক্সিন’ বের হয়ে যায়—এমন শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
জেনে নিন সম্ভাব্য উপকার-
হলুদের কারকিউমিন শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহবিরোধী কার্যক্রমে ভূমিকা রাখতে পারে। কিছু গবেষণায় কারকিউমিন গ্রহণের সঙ্গে প্রদাহ ও কিছু বিপাকীয় সূচকে সামান্য উন্নতির সম্ভাবনা দেখা গেছে। তবে এসব গবেষণার অনেকগুলোতেই নির্দিষ্ট মাত্রার কারকিউমিন সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে; তাই কাঁচা হলুদ মিশ্রিত পানির ক্ষেত্রে একই ফল নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।
হজমে কেমন প্রভাব পড়ে?
কিছু মানুষের ক্ষেত্রে হলুদ খাবার হজমে সহায়ক মনে হতে পারে। তবে বেশি পরিমাণে কাঁচা হলুদ খেলে উল্টো পেটের অস্বস্তি, বমিভাব, ডায়রিয়া বা অ্যাসিডিটির মতো সমস্যা হতে পারে।
‘ডিটক্স’ নিয়ে সতর্কতা জরুরি
শরীর থেকে ক্ষতিকর পদার্থ অপসারণের প্রধান দায়িত্ব পালন করে আমাদের লিভার ও কিডনি। তাই কোনো একটি পানীয়কে শরীর ‘ডিটক্স’ করার বিশেষ উপায় হিসেবে দেখার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি সীমিত। পর্যাপ্ত পানি পান, সুষম খাবার, নিয়মিত শরীরচর্চা ও পর্যাপ্ত ঘুম—সুস্থ থাকার জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
কারা সতর্ক থাকবেন?
যাঁদের পিত্তথলিতে পাথর বা পিত্তনালির সমস্যা রয়েছে, তাঁদের বেশি পরিমাণে হলুদ গ্রহণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। রক্ত পাতলা করার ওষুধসহ কিছু ওষুধের সঙ্গে উচ্চমাত্রার হলুদ বা কারকিউমিনের পারস্পরিক প্রভাবের সম্ভাবনাও রয়েছে।
তাই কাঁচা হলুদের পানি চাইলে খাবারের অংশ হিসেবে পরিমিত পরিমাণে নেওয়া যেতে পারে, কিন্তু এটিকে কোনো রোগের চিকিৎসা বা ‘শরীরের সব বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেওয়ার’ উপায় হিসেবে ভাবা ঠিক নয়। নিয়মিত কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা থাকলে ঘরোয়া ডিটক্সের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
তথ্যসূত্র: National Center for Complementary and Integrative Health (NCCIH)