অফিস বন্ধ, কিন্তু নারীদের কী সত্যিই ছুটি?


ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ছুটির দিন মানেই একটু বিশ্রাম, নিজের মতো সময় কাটানো, কিংবা কোথাও ঘুরতে যাওয়া—এমনটাই হওয়ার কথা। কিন্তু অনেক নারীর কাছে অফিস বন্ধের দিনও কাজের তালিকা শেষ হয় না। বরং কর্মদিবসের ব্যস্ততার সঙ্গে যুক্ত হয় ঘরের বাড়তি কাজ, রান্না, কাপড় ধোয়া, ঘর গোছানো আর পরিবারের সবার যত্ন নেওয়া।


সপ্তাহজুড়ে অফিস সামলে যেসব নারী ঘরে ফেরেন, ছুটির দিনেও তাঁদের অনেকের অপেক্ষায় থাকে আরেক দফা দায়িত্ব। পরিবারের অন্য সদস্যরা যখন বিশ্রাম নেন, তখন কেউ হয়তো রান্নাঘরে ব্যস্ত, কেউ ঘর পরিষ্কারে, কেউবা সন্তানের পড়াশোনা ও পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে ব্যস্ত সময় পার করেন। ফলে ক্যালেন্ডারে ছুটি থাকলেও তাঁদের জীবনে বিশ্রামের সুযোগ থাকে সামান্যই। তাহলে প্রশ্ন হলো, ছুটি কি শুধু অফিস থেকে, নাকি দায়িত্ব থেকেও?


ঘরের কাজ কী শুধু নারীর?


ঘরের কাজ পরিবারের সবার। অথচ অনেক পরিবারে রান্না, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সন্তান লালন-পালন কিংবা বয়স্কদের দেখাশোনার দায়িত্ব এখনো মূলত নারীর কাঁধেই থাকে। কর্মজীবী নারীকে তাই একই সঙ্গে সামলাতে হয় পেশাগত দায়িত্ব ও ঘরের কাজ। আর ছুটির দিনটি হয়ে ওঠে জমে থাকা কাজ শেষ করার দিন।


এই অভ্যাসের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের সামাজিক ধারণা—ঘর সামলানো নারীর দায়িত্ব, আর পুরুষের অংশগ্রহণ যেন সহযোগিতা মাত্র। অথচ সংসার সবার হলে দায়িত্বও সবার হওয়া উচিত।


বিশ্রাম কোনো বিলাসিতা নয়


একটানা কাজ করতে করতে শরীর ও মন—দুটিই ক্লান্ত হয়ে পড়ে। নিজের পছন্দের কাজ করা, বই পড়া, গান শোনা, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো কিংবা কিছুক্ষণ নিরিবিলি থাকা—এসবও সুস্থ জীবনের অংশ। কিন্তু নিজের জন্য সময় বের করতে গিয়ে অনেক নারীকে অপরাধবোধে ভুগতে হয়। মনে হয়, নিজের বিশ্রামের চেয়ে পরিবারের কাজ বুঝি বেশি জরুরি।


বাস্তবতা হলো, বিশ্রাম নেওয়া অলসতা নয়। নিজের যত্ন নেওয়া মানে অন্যদের প্রতি দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া নয়। বরং নিজের শারীরিক ও মানসিক ভালো থাকার জন্যও সময় প্রয়োজন।


ছুটি হোক সবার


ছুটির দিনকে সত্যিকারের ছুটিতে পরিণত করতে পরিবারের সবাইকে দায়িত্ব ভাগ করে নিতে হবে। রান্না, ঘর গোছানো, বাজার করা কিংবা সন্তানকে সময় দেওয়া—সব কাজ একজনের ওপর না চাপিয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।


পরিবারের সদস্যরা চাইলে কাজ ভাগ করে নিয়ে এমন একটি দিন তৈরি করতে পারেন, যেখানে প্রত্যেকেরই নিজের জন্য কিছুটা সময় থাকবে। সব কাজ নিখুঁতভাবে শেষ করতেই হবে—এমন চাপ থেকেও বেরিয়ে আসা দরকার।


নারীর ছুটি মানে শুধু অফিসে না যাওয়া নয়; মানে কিছুটা সময় নিজের মতো করে বাঁচার সুযোগ পাওয়া। সেই সময়টুকুতে তিনি বিশ্রাম নিতে পারেন, ঘুরতে যেতে পারেন, প্রিয় মানুষের সঙ্গে সময় কাটাতে পারেন কিংবা কিছুই না করে চুপচাপ থাকতে পারেন।


অফিস বন্ধ হলেই ছুটি হয় না। ছুটি তখনই পূর্ণতা পায়, যখন নারীর কাজের চাপ কমে, দায়িত্ব ভাগ হয়, আর নিজের জন্য সময় রাখাকে স্বাভাবিক বলে মেনে নেওয়া হয়।


এবার ছুটির দিনে শুধু নারীর কাজের তালিকা নয়, তাঁর বিশ্রামের কথাও ভাবুন। কারণ সংসার সবার, তাই ছুটির আনন্দও হোক সবার।

sidebar ad