নারীর শরীরে হরমোনের পরিবর্তন একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। মাসিক, গর্ভাবস্থা, সন্তান জন্মদান থেকে শুরু করে মেনোপজ—জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে হরমোনের মাত্রায় পরিবর্তন আসে। তবে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলে নানা শারীরিক ও মানসিক উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
১. ইস্ট্রোজেনের ভারসাম্যহীনতা: নারীর প্রজননস্বাস্থ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ইস্ট্রোজেন। এর মাত্রায় অতিরিক্ত ওঠানামা হলে মাসিক অনিয়ম, অতিরিক্ত বা কম রক্তপাত, মুড পরিবর্তন, স্তনে অস্বস্তি কিংবা মেনোপজের উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
২. থাইরয়েড হরমোনের সমস্যা: থাইরয়েডের হরমোন কম বা বেশি হলে শরীরে নানা পরিবর্তন দেখা যায়। অস্বাভাবিক ক্লান্তি, ওজন বেড়ে বা কমে যাওয়া, চুল পড়া, হৃদস্পন্দনের পরিবর্তন এবং মাসিকের অনিয়ম এর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। নারীদের মধ্যে থাইরয়েডের সমস্যা তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়।
৩. ইনসুলিনের ভারসাম্যহীনতা: ইনসুলিন শরীরের রক্তে গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ। শরীর ইনসুলিনের প্রতি কম সংবেদনশীল হয়ে গেলে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি হতে পারে। এটি বিশেষ করে PCOS (পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম)-এর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। অনিয়মিত মাসিক, ব্রণ, অতিরিক্ত লোম এবং ওজন বাড়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
তবে এসব লক্ষণ দেখা দিলেই যে হরমোনের সমস্যা রয়েছে, তা নিশ্চিত নয়। একই ধরনের উপসর্গ অন্য অনেক কারণেও হতে পারে। তাই দীর্ঘদিন মাসিক অনিয়ম, অস্বাভাবিক ওজন পরিবর্তন, অতিরিক্ত ক্লান্তি বা অন্য কোনো উপসর্গ থাকলে নিজে থেকে হরমোনের ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
তথ্যসূত্র: হু (WHO)