দুধ খাওয়ার পরই তুলে দেয়, শোয়ালেই কান্না! শিশুর রিফ্লাক্স নিয়ে দুশ্চিন্তা কতটা?

প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

সদ্যোজাত শিশুকে দুধ খাওয়ানোর পর মুখ দিয়ে দুধ উঠে আসা কিংবা বিছানায় শোয়ানোর পরপরই কান্না শুরু করা এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়নি এমন মা-বাবাই কমই আছেন। ছোট্ট বাবুর এই অস্বস্তি দেখে স্বাভাবিকভাবেই মনে প্রশ্ন জাগে, এটি কি কোনো অসুখের লক্ষণ?


অনেক ক্ষেত্রে এর কারণ হতে পারে ইনফ্যান্ট রিফ্লাক্স (Infant Reflux)। শিশুর পাকস্থলীর খাবারনালির সংযোগস্থলের পেশি পুরোপুরি পরিণত না হওয়ায় দুধ আবার মুখের দিকে উঠে আসতে পারে। সাধারণত বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই সমস্যা কমে যায়। তবে সব ধরনের বমি বা কান্নাকে স্বাভাবিক ভেবে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়।




কেন দুধ খাওয়ার পর এমন হয়?


শিশুর পাকস্থলী ছোট থাকে এবং খাবারনালির নিচের পেশি এখনো পুরোপুরি পরিণত হয় না। ফলে দুধ খাওয়ার পর কিছু দুধ মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসতে পারে। অতিরিক্ত দুধ খাওয়ানো, খাওয়ার সময় বাতাস গিলে ফেলা কিংবা খাওয়ানোর পরপরই নড়াচড়া করলেও সমস্যা বাড়তে পারে। তবে শুধু কান্না করলেই যে রিফ্লাক্স হচ্ছে, তা নিশ্চিত নয়।

 

শিশুর অস্বস্তি কমাতে যা করবেন:


১. সঠিকভাবে দুধ খাওয়ান: বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় শিশুর মাথা ও শরীর একই সরলরেখায় রাখুন। বোতলে খাওয়ালে দুধের প্রবাহ যেন খুব দ্রুত না হয়। শিশুকে জোর করে অতিরিক্ত দুধ খাওয়াবেন না।


২. খাওয়ানোর পর ঢেকুর তুলতে সাহায্য করুন: শিশুকে কাঁধে বা কোলে বুকের সঙ্গে সোজা করে ধরে আলতোভাবে পিঠে হাত বুলিয়ে দিন। খাওয়ানোর পর প্রায় ২০–৩০ মিনিট জেগে থাকা অবস্থায় সোজা করে রাখলে উপকার হতে পাবেন।


আরোও পড়ুন: শিশুর ক্যানসারের ৫টি সতর্কসংকেত,যা প্রত্যেক অভিভাবকের জানা জরুরি!

 

৩. নিরাপদভাবে ঘুম পাড়ান: শিশুকে ঘুমের সময় সবসময় চিত করে সমতল ও শক্ত বিছানায় শোয়াবেন না। বালিশ কিছুটা উচু করে বানিয়ে নিতে পারেন। বিছানা বা মাথা উঁচু করার বিশেষ ব্যবস্থা ব্যবহার খুব সতর্ক থাকুন যেন গড়িয়ে পরে না যায়। রিফ্লাক্স থাকলেও উপুড় করে বা কাত করে ঘুম পাড়ানো নিরাপদ নয়।

 

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি?


নিচের লক্ষণগুলো দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসা নিন:


বমি জোরে ফিনকি দিয়ে বের হওয়া বা বারবার বাড়তে থাকা।


বমি সবুজ হওয়া কিংবা রক্ত দেখা যাওয়া।


শিশুর দুধ খেতে না চাওয়া, অস্বাভাবিক নিস্তেজতা বা প্রস্রাব কমে যাওয়া।


ওজন না বাড়া বা কমে যাওয়া।


জ্বর, শ্বাসকষ্ট কিংবা তীব্র ও অবিরাম কান্না।


বিশেষ করে তিন মাসের কম বয়সী শিশুর তাপমাত্রা ১০১° সেলসিয়াস বা তার বেশি হলে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন।

 


যা করবেন না: 


চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া শিশুকে পানি, মধু, গ্রাইপ ওয়াটার কিংবা বমি বন্ধের ওষুধ দেবেন না।


ছয় মাসের কম বয়সী শিশুকে সাধারণত বুকের দুধ বা উপযুক্ত ফর্মুলা ছাড়া অন্য পানীয় দেওয়ার প্রয়োজন হয় না।

 

মনে রাখা জরুরি :


দুধ উঠে আসা অনেক শিশুর ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক বিকাশের অংশ। কিন্তু শিশুর অস্বস্তি যদি নিয়মিত হয়, খাওয়ায় সমস্যা দেখা দেয় কিংবা ওজন না বাড়ে, তাহলে শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


সন্তানের প্রতিটি কান্নাই মা-বাবার মনে উদ্বেগ তৈরি করে। তাই ভয় না পেয়ে লক্ষণগুলো বুঝুন, নিরাপদ পরিচর্যা করুন এবং প্রয়োজন হলে সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিন।


ঢাকা/টিএ

sidebar ad