হ্যাপি গর্জিয়াস গ্র্যান্ডমা ডে: বয়স নয়, সৌন্দর্য আর ভালোবাসার উদযাপন

প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬

হ্যাপি গর্জিয়াস গ্র্যান্ডমা ডে: বয়স নয়, সৌন্দর্য আর ভালোবাসার উদযাপন

ছোট্ট এক ছেলে ডেভিড, যে মনে করত দাদি মানেই শান্ত, গম্ভীর আর নিয়ম মেনে চলা একজন মানুষ; যিনি সারাদিন নাতির জন্য কুকিজ বানাবেন আর গল্প শোনাবেন। কিন্তু একদিন তার জীবনে এলেন এক ভিন্ন ধরনের দাদি। তিনি ফুরফুরে মেজাজে কার্ড খেলেন, রেসলিং দেখতে ভালোবাসেন, ডেভিডের বিছানা ভেজানোর ঘটনা নিয়ে মজাও করেন, আবার পরম মমতায় নাতির দুর্বলতাগুলোকে পাশ কাটিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে সাহস দেন।


প্রথমে তাঁদের সম্পর্ক ছিল অচেনা, অনেকটা অস্বস্তিকরও। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই দাদিই হয়ে ওঠেন ডেভিডের সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়, সবচেয়ে কাছের বন্ধু।


অস্কারজয়ী ‘মিনারি’ চলচ্চিত্রের এই হৃদয়ছোঁয়া সম্পর্ক আমাদের মনে করিয়ে দেয়, দাদি বা নানির সৌন্দর্য কেবল মুখাবয়বে নয়, তাঁদের জীবনবোধ ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসায় লুকিয়ে থাকে। প্রতি বছর ২৩ জুলাই ‘ন্যাশনাল গর্জিয়াস গ্র্যান্ডমা ডে’ উদযাপনের মাধ্যমে আমাদের জীবনের অসাধারণ দাদি ও নানিদের সম্মান জানানো হয়। এই বিশেষ দিনটি তাঁদের চিরন্তন সৌন্দর্য, অটুট ভালোবাসা এবং অমূল্য প্রজ্ঞাকে স্বীকৃতি জানাতে আমাদের উৎসাহিত করে।


অ্যালিস সলোমন ১৯৮৪ সালে ‘ন্যাশনাল গর্জিয়াস গ্র্যান্ডমা ডে’-এর সূচনা করেছিলেন। এর পেছনে রয়েছে এক চমকপ্রদ কাহিনি। তিনি যখন ৫০ বছর বয়সে ওয়েলেসলি কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন, তখন লক্ষ্য করেন যে সমাজ তাঁকে এবং তাঁর সমবয়সী নারীদের কেবল ‘বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিক’ বা ‘সিনিয়র সিটিজেন’ হিসেবেই দেখছে। তাঁরা বাস্তবে কেউ দাদি বা নানি হন কি না, তাতে কিছুই যায় আসে না। এই চিন্তাধারাকে চ্যালেঞ্জ করার সংকল্প নিয়ে তিনি ‘গর্জিয়াস গ্র্যান্ডমা’ ধারণাটি সামনে নিয়ে আসেন।


সাধারণত যেসব নারীকে সময় ফুরিয়ে যাওয়া বা অপ্রাসঙ্গিক বলে মনে করা হয়, তাঁদেরই ‘গ্র্যান্ডমা’ বলে অভিহিত করা হয়। তাই সলোমন এই শব্দটিকে গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেন এবং এর সঙ্গে ‘গর্জিয়াস’ যুক্ত করে বিষয়টিকে নতুন মাত্রা দেন। নির্দিষ্ট বয়সের নারীদের—তাঁরা নানি বা দাদি হন বা না হন—সম্মান জানানোর উদ্দেশ্যেই এই দিনটি প্রবর্তন করা হয়। এটি তাঁদের অর্জন ও সক্ষমতাকে স্বীকৃতি জানানোর একটি সময়।


প্রথাগত বা গৎবাঁধা দাদি-নানির যে ধারণা প্রচলিত, তা ভাঙাই ছিল এই দিনটির উদ্দেশ্য। সলোমন দেখাতে চেয়েছিলেন যে দাদি বা নানিরা কেবল রকিং চেয়ারে বসে থাকা বা উল বোনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নন। বরং তাঁরা অত্যন্ত প্রাণবন্ত মানুষ, যারা জীবনকে পরিপূর্ণভাবে উপভোগ করেন, নিজেদের শখের কাজগুলো করেন এবং অত্যন্ত মার্জিত ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজেদের বয়সকে গ্রহণ করেন।


দাদি-নানিরা তাঁদের পরিবারকে অকৃত্রিম ভালোবাসা ও স্নেহের চোখে দেখেন এবং সাধারণত জীবনের প্রতি তাঁদের এক সংক্রামক ইতিবাচক মনোভাব থাকে। জীবনের নানা অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে তাঁরা আমাদের জন্য মূল্যবান ও বিজ্ঞতাপূর্ণ পরামর্শ নিয়ে আসেন। বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক কষ্ট বা ব্যথা থাকা সত্ত্বেও অধিকাংশ দাদি-নানির মধ্যেই থাকে এক ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও বিস্ময়কর প্রাণশক্তি, যা আমাদের জীবনেও ছড়িয়ে পড়ে।


সব নারীই যে দাদি বা নানি হন, তা কিন্তু নয়। অনেক ক্ষেত্রে এমন সব নারী দাদি বা নানির ভূমিকা পালন করেন, যাঁদের আসলে সেই পারিবারিক সম্পর্কটি নেই। স্মৃতির পাতায় থাকা দাদি-নানিদের মতোই তাঁরা পরম মমতায় কথা শোনেন, ভালোবাসার আলিঙ্গনে জড়িয়ে ধরেন।


এই অসাধারণ নারীদের প্রায় সবাই পারিবারিক ঐতিহ্যকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি শিশুদের স্বাবলম্বী হতে শেখান। প্রজ্ঞা ও রসবোধে ভরপুর এই দাদি-নানিদের ছাড়া জীবনটা কেমন হতো, তা কি ভাবা যায়? তাঁদের হয়তো নানা নামে ডাকা হয়, কিন্তু প্রত্যেকেই নিজ নিজ বৈশিষ্ট্যে অনন্য ও চমৎকার।


দিনটি যেভাবে উদযাপন করবেন


‘গর্জিয়াস গ্র্যান্ডমা ডে’-তে আপনার জীবনের সেই বিশেষ দাদি বা নানিকে জানিয়ে দিন যে তিনি আপনার কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ। এই দিনটি উদযাপনের অসংখ্য উপায় রয়েছে—


একটি আরামদায়ক স্পার অভিজ্ঞতা উপহার দিন। ম্যাসাজ, ফেসিয়াল বা ম্যানিকিউরের মাধ্যমে আপনি তাঁকে বোঝাতে পারেন যে তিনি আপনার কাছে বিশেষ। এ ছাড়া বাইরে কেনাকাটা করতে নিয়ে যেতে পারেন অথবা তাঁর পছন্দের কোনো খাবার খাওয়াতে পারেন।

সারাদিন তাঁর সঙ্গে গল্প করে কিছু সুন্দর সময় কাটাতে পারেন। দাদি বা নানিদের ঝুলিতে থাকে অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানের এক বিশাল ভান্ডার। তাঁর প্রিয় স্মৃতি, জীবনের কোনো পরামর্শ বা রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার কথা জানতে চান। নিজে শোনার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই গল্পগুলো রেকর্ড বা লিপিবদ্ধ করে রাখুন।

একটি কার্ড তৈরি করে দিতে পারেন। তাতে লিখে দিতে পারেন তাঁর প্রতি আপনার অনুভূতির কথাগুলো। সঙ্গে তাঁর পছন্দের কিছু তাজা ফুল গুঁজে দিতে পারেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ভালোবাসা ভাগ করে নিতে পারেন। তাঁদের সঙ্গে তোলা কোনো প্রিয় মুহূর্তের ছবি পোস্ট করুন এবং সঙ্গে #GorgeousGrandmaDay হ্যাশট্যাগটি যুক্ত করুন।


এগুলো কেবল কিছু পরামর্শ, কয়েকটি ধারণা, যা আপনাকে ‘গর্জিয়াস গ্র্যান্ডমা ডে’ উদযাপনের জন্য আপনার নিজস্ব ও মৌলিক উপায় খুঁজে বের করতে অনুপ্রাণিত করবে। মূল উদ্দেশ্য হলো, তিনি যে একজন অসাধারণ নারী, তা তাঁকে অনুভব করানো।


* শায়লা জাহান

sidebar ad