একজন পুরুষ সন্তান নেওয়ার জন্য প্রস্তুত, কিন্তু বাবা হওয়ার জন্য কি তাকে প্রস্তুত করা হয়? বা তিনি নিজেই কি প্রস্তুত হন?

প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

সন্তান আসার খবরটি যখন শুধু আনন্দের নয়, একজন পুরুষের জীবনের সবচেয়ে বড় পরিবর্তনের শুরু। একজন পুরুষ যখন জানতে পারেন, তিনি বাবা হতে যাচ্ছেন, তখন চারপাশ থেকে সাধারণত যে কথাগুলো আসে সেগুলো খুব পরিচিত—অভিনন্দন”, “এবার দায়িত্ব বেড়ে গেল”, “বাচ্চার জন্য টাকা জমাতে হবে”, “স্ত্রীর যত্ন নিও”। কিন্তু খুব কম মানুষ তাকে বসিয়ে জিজ্ঞেস করেন—


“তুমি বাবা হওয়ার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত তো?”


আরও কম মানুষ তাকে শেখান—


একজন ভালো বাবা আসলে কী করেন?


সন্তান জন্মের আগে কীভাবে নিজের স্বাস্থ্য ও জীবনযাপন ঠিক করতে হয়, স্ত্রীর গর্ভাবস্থায় একজন স্বামীর ভূমিকা কী, নবজাতকের যত্নে বাবার কাজ কী, সন্তানের সঙ্গে সম্পর্ক কীভাবে তৈরি করতে হয়, কিংবা নিজের ভয়, চাপ ও অনিশ্চয়তার সঙ্গে কীভাবে মোকাবিলা করতে হয়—এসব নিয়ে পুরুষদের জন্য প্রস্তুতিমূলক শিক্ষা খুবই সীমিত।


অথচ গবেষণা বলছে, বাবা হওয়া শুধু একটি পারিবারিক পরিচয় পরিবর্তন নয়; এটি একজন পুরুষের শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও জীবনযাপনের বড় পরিবর্তনের সময়।


বাংলাদেশের তরুণ পুরুষদের নিয়ে একটি জাতীয় গবেষণায় দেখা গেছে, বাবা হওয়ার ধারণা, সন্তান নেওয়ার প্রস্তুতি এবং পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে পুরুষদের বোঝাপড়ায় গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতি রয়েছে। গবেষণাটিতে বিশেষভাবে দেখা গেছে, অনেক পুরুষের কাছে পরিবার পরিকল্পনার ধারণা মূলত কখন সন্তান হবে—এই সিদ্ধান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ; বাবা হওয়ার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করা বিষয়টি সেখানে অনেক কম গুরুত্ব পায়। 


বাবা হওয়ার প্রস্তুতি কি শুধু টাকা জমানো?


আমাদের সমাজে একজন পুরুষকে বাবা হওয়ার আগে সবচেয়ে বেশি যে প্রস্তুতির কথা বলা হয়, সেটি হলো অর্থনৈতিক প্রস্তুতি।


চাকরি ঠিক রাখতে হবে।


আয় বাড়াতে হবে।


বাড়ি করতে হবে।


সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য টাকা রাখতে হবে।


এসব অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ।


কিন্তু বাবা হওয়ার প্রস্তুতিকে যদি শুধু উপার্জনের সক্ষমতা দিয়ে মাপা হয়, তাহলে একজন পুরুষের বাবা হওয়ার বিশাল একটি অংশ বাদ পড়ে যায়। কারণ সন্তান শুধু খাবার, পোশাক, স্কুলের খরচ বা চিকিৎসা চায় না। সে চায় একজন উপস্থিত বাবা। যে বাবা তার কথা শুনবে। তার ভয়কে গুরুত্ব দেবে। তার প্রশ্নের উত্তর দেবে। ভুল করলে শুধু বকবে না, বুঝবে। সন্তানের সঙ্গে সময় কাটাবে। এবং প্রয়োজন হলে নিজের আচরণও বদলাবে।


সাম্প্রতিক একটি বৃহৎ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শৈশবে বাবার সক্রিয় সম্পৃক্ততা সন্তানের সামাজিক ও আবেগীয় বিকাশের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণভাবে সম্পর্কিত। অর্থাৎ বাবা সন্তানের জীবনে শুধু অর্থনৈতিক ভূমিকা পালন করেন না; তার উপস্থিতি ও অংশগ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ। 


তাহলে পুরুষকে প্রস্তুত করে কে?— এখানেই সবচেয়ে বড় শূন্যতা। একজন নারী গর্ভবতী হলে তার জন্য চিকিৎসা পরামর্শ, পরীক্ষা, খাদ্যাভ্যাস, গর্ভকালীন যত্ন, প্রসবের প্রস্তুতি—এসব নিয়ে নিয়মিত কথা হয়।


কিন্তু হবু বাবার জন্য? অনেক ক্ষেত্রেই তিনি শুধু স্ত্রীর সঙ্গে চিকিৎসকের কাছে যান, কিছু নির্দেশনা শোনেন এবং তারপর নিজের কাজের জগতে ফিরে যান।


অথচ বাবা হওয়ার পরিবর্তনটি তার নিজের জীবনেও ঘটে। গবেষণায় প্রথমবার বাবা হওয়া পুরুষদের অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নতুন বাবারা পরিচয়ের পরিবর্তন, দায়িত্বের চাপ, ভয়, মানসিক চাপ এবং সম্পর্কের পরিবর্তনের মুখোমুখি হন। একই সঙ্গে তারা বাবা হওয়ার আগে আরও নির্দেশনা ও সহায়তা চান।


আর ২০২৪ সালের একটি আন্তর্জাতিক পর্যালোচনায় ৩৭টি গবেষণা বিশ্লেষণ করে দেখা হয়েছে, নতুন বাবাদের একটি বড় সমস্যা হলো তারা নিজেদের অনেক সময় গর্ভাবস্থা ও সন্তান জন্মের পুরো অভিজ্ঞতার মধ্যে “পাশের মানুষ” হিসেবে অনুভব করেন। একই গবেষণায় পুরুষের প্রচলিত “নিজেকেই সব সামলাতে হবে” ধরনের মানসিকতার কথাও উঠে এসেছে। 


অর্থাৎ সমস্যাটি শুধু তথ্যের অভাব নয়। সমস্যাটি হলো—সমাজ অনেক সময় পুরুষকে বাবা হওয়ার জন্য একটি ভূমিকা দেয়, কিন্তু সেই ভূমিকার জন্য প্রস্তুত করে না।“আমি তো পুরুষ, আমাকে শক্ত থাকতেই হবে”।  বাবা হওয়ার সঙ্গে পুরুষের ওপর আরেকটি অদৃশ্য চাপ তৈরি হয়।


তাকে উপার্জন করতে হবে।


পরিবারকে নিরাপদ রাখতে হবে।


স্ত্রীকে সামলাতে হবে।


সন্তানের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হবে।

নিজের সমস্যাগুলো নিজের মধ্যেই রাখতে হবে।


ফলে অনেক পুরুষের কাছে বাবা হওয়া আনন্দের পাশাপাশি একটি নীরব ভয়ও হয়ে দাঁড়াতে পারে—


“আমি কি পারব?” এই ভয় সবসময় মুখে আসে না। কেউ আরও বেশি কাজ করেন। কেউ চুপ হয়ে যান। কেউ নিজের জন্য সময় কমিয়ে দেন। কেউ অর্থনৈতিক দুশ্চিন্তায় ডুবে যান।


প্রথমবার বাবা হওয়া পুরুষদের নিয়ে গবেষণায় দেখা গেছে, নতুন দায়িত্ব ও জীবনযাপনের পরিবর্তনের চাপ সামলাতে কেউ কেউ অস্বীকার করা, অতিরিক্ত কাজ করা বা অন্যভাবে নিজেকে ব্যস্ত রাখার মতো আচরণে চলে যান। 


২০২৫ সালের একটি গবেষণাতেও দেখা গেছে, সন্তান জন্মের পর প্রায় প্রতি দশজন পুরুষের একজন বিষণ্নতার লক্ষণ নিয়ে স্ক্রিনিংয়ে ইতিবাচক হতে পারেন এবং সন্তান আসার আগের মানসিক সুস্থতা পরবর্তী ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। 


তাই বাবা হওয়ার প্রস্তুতি মানে শুধু শিশুর জন্য প্রস্তুতি নয়। বাবাকেও প্রস্তুত করা। 


সন্তান নেওয়ার আগেই বাবার স্বাস্থ্য গুরুত্বপূর্ণ


এখানে আরও একটি বিষয় আমরা খুব কম আলোচনা করি। বাবা হওয়ার প্রস্তুতি আসলে সন্তান গর্ভে আসার আগেই শুরু হতে পারে।


পুরুষের খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক সক্রিয়তা, ধূমপান, অতিরিক্ত ওজন, মানসিক চাপসহ বিভিন্ন জীবনযাপন-সম্পর্কিত বিষয় প্রজননস্বাস্থ্য এবং ভবিষ্যৎ সন্তানের স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। পুরুষের সন্তান নেওয়ার আগের স্বাস্থ্য নিয়ে ৬৫টি গবেষণা পর্যালোচনা করা একটি গবেষণায় ধূমপান, শারীরিক সক্রিয়তা, মানসিক চাপ, পুষ্টি ও শরীরের ওজনসহ বিভিন্ন পরিবর্তনযোগ্য ঝুঁকির বিষয় উঠে এসেছে। গবেষকেরা একই সঙ্গে বলেছেন, এই ক্ষেত্রটি এখনো তুলনামূলকভাবে কম গবেষণা করা হয়েছে। 


২০২৬ সালের একটি বিশদ পর্যালোচনাও বলছে, সন্তান নেওয়ার আগের সময়ে পুরুষের স্বাস্থ্য ও সুস্থতা এখনো গবেষণা, চিকিৎসা ও নীতিনির্ধারণে নারীর তুলনায় অনেক কম গুরুত্ব পায়। অথচ পুরুষের জীবনযাপন ও স্বাস্থ্য ভবিষ্যৎ গর্ভধারণ, পরিবার এবং সন্তানের ফলাফলের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।


অর্থাৎ—


বাবা হওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয় সন্তান জন্মের দিন থেকে নয়; তারও আগে।


একজন পুরুষের আসলে কী কী প্রস্তুতি নেওয়া দরকার?


এক. নিজের শরীরের দিকে তাকানো


সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলে নিজের স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন হওয়া দরকার।


ধূমপান করলে কমানো বা ছাড়ার চেষ্টা, নিয়মিত শরীরচর্চা, ওজন নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত ঘুম, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরীক্ষা এবং দীর্ঘদিনের কোনো শারীরিক সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া—এসবই দায়িত্বশীল প্রস্তুতির অংশ।


দুই. শুধু স্ত্রীর স্বাস্থ্য নয়, নিজের প্রজননস্বাস্থ্য নিয়েও জানা


সন্তান ধারণকে অনেক সময় পুরোপুরি নারীর বিষয় হিসেবে দেখা হয়।


এটি ভুল ধারণা।


পুরুষের প্রজননস্বাস্থ্যও সন্তান ধারণের প্রক্রিয়ার অংশ। সন্তান নিতে সমস্যা হলে শুধু নারীকে পরীক্ষা করানো বা দায়ী করা উচিত নয়; প্রয়োজন হলে দুজনেরই মূল্যায়ন দরকার।


পুরুষের সন্তান নেওয়ার আগের স্বাস্থ্য নিয়ে সাম্প্রতিক গবেষণাগুলোও পুরুষকে প্রজননস্বাস্থ্যের সক্রিয় অংশীদার হিসেবে দেখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিচ্ছে। 


তিন. অর্থনৈতিক পরিকল্পনা


বাবা হওয়ার অর্থ শুধু “আরও টাকা আয় করতে হবে” নয়।


বরং হিসাব করা—


সন্তানের জন্মের পর মাসিক খরচ কত বাড়তে পারে?

জরুরি চিকিৎসার জন্য কী ব্যবস্থা আছে?

মায়ের বিশ্রাম বা কাজের পরিবর্তন হলে পরিবারের আয়-ব্যয়ের কী প্রভাব পড়বে?

সন্তানের ভবিষ্যৎ শিক্ষার জন্য কীভাবে ধীরে ধীরে সঞ্চয় করা যায়?


অর্থনৈতিক প্রস্তুতি মানে আতঙ্ক নয়।


পরিকল্পনা।


চার. স্বামীর ভূমিকা থেকে বাবার ভূমিকায় যাওয়া


এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানসিক পরিবর্তনগুলোর একটি।


সন্তান জন্মের পর স্ত্রী শুধু স্ত্রী থাকেন না; তিনি একজন মা-ও হন।


একইভাবে পুরুষও শুধু স্বামী থাকেন না; তিনি বাবা হন।


ফলে সম্পর্কের সময়, দায়িত্ব, ঘুম, ব্যক্তিগত সময়—সবকিছু বদলাতে পারে।


এই পরিবর্তন সম্পর্কে আগে থেকেই কথা না বললে ছোট ছোট বিষয়েও দাম্পত্যে চাপ তৈরি হতে পারে।


পাঁচ. “বাচ্চার যত্ন মায়ের কাজ”—এই ধারণা বদলানো


শিশুকে খাওয়ানো, কাপড় বদলানো, ঘুম পাড়ানো, গোসল করানো, চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া, কান্নার সময় পাশে থাকা—এসব শুধু মায়ের কাজ নয়।


বাবার অংশগ্রহণ শিশুর সঙ্গে সম্পর্ক তৈরির সুযোগ তৈরি করে।


আর ২০২৬ সালের একটি বিশাল বিশ্লেষণেও বাবার অংশগ্রহণকে শিশুর সামাজিক ও আবেগীয় বিকাশের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণভাবে যুক্ত পাওয়া গেছে। (ScienceDirect⁠)


ছয়. নিজের সন্তানের সঙ্গে কেমন সম্পর্ক চান, আগে ভাবা


একজন পুরুষ নিজের বাবার কাছ থেকে কী পেয়েছেন—সেটিও তার বাবা হওয়ার ধরনকে প্রভাবিত করতে পারে।


কেউ হয়তো বাবার কাছ থেকে অনেক ভালোবাসা পেয়েছেন।


কেউ পেয়েছেন কঠোরতা।


কেউ হয়তো বাবার সঙ্গে খুব কম কথা বলেছেন।


কেউ বাবাকে দেখেছেন শুধু পরিবারের উপার্জনকারী হিসেবে।


বাবা হওয়ার আগে নিজেকে একটি প্রশ্ন করা দরকার—


“আমার সন্তান বড় হয়ে আমাকে কী ধরনের বাবা হিসেবে মনে রাখুক?”


এই প্রশ্নের উত্তর একজন পুরুষের আচরণ বদলানোর শক্তিশালী সূচনা হতে পারে।


বাবা হওয়া মানে নিখুঁত হওয়া নয়


এখানে একটি ভুল ধারণা দূর করা দরকার।


ভালো বাবা হওয়ার অর্থ সবসময় সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া নয়।


ভালো বাবা ভুল করতে পারেন।

রেগে যেতে পারেন।

ক্লান্ত হতে পারেন।

অর্থনৈতিক সমস্যায় পড়তে পারেন।

কখনো সন্তানকে বুঝতে নাও পারেন।


কিন্তু তিনি ভুল বুঝতে পারেন এবং সংশোধন করতে পারেন।


সন্তানের সামনে প্রয়োজনে বলতে পারেন—


“বাবা ভুল করেছে।”


এই একটি বাক্যও শিশুকে অনেক কিছু শেখাতে পারে।


কারণ সন্তানের প্রয়োজন নিখুঁত বাবা নয়।


তার প্রয়োজন উপস্থিত বাবা।


আর সমাজের দায়িত্ব?


বাবা হওয়ার প্রস্তুতির দায়িত্ব শুধু পুরুষের ওপর চাপিয়ে দিলেও হবে না।


চিকিৎসা ব্যবস্থায় হবু বাবাকে আরও সক্রিয়ভাবে অন্তর্ভুক্ত করা দরকার। পরিবার পরিকল্পনার আলোচনায় পুরুষকে শুধু “সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী” নয়, দায়িত্বশীল অংশীদার হিসেবে দেখতে হবে। গণমাধ্যমেও পুরুষকে শুধু উপার্জনকারী হিসেবে দেখানোর বাইরে এসে তার বাবা হওয়ার মানসিক, শারীরিক ও আবেগীয় অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলতে হবে।


সাম্প্রতিক গবেষণাগুলো পুরুষদের সন্তান নেওয়ার আগের স্বাস্থ্য ও পরিবার-সম্পর্কিত প্রস্তুতিতে আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথাই বলছে। 


বাংলাদেশের বাস্তবতাও আমাদের সেই প্রশ্নের সামনে দাঁড় করায়। জাতীয় গবেষণায় তরুণ পুরুষদের বাবা হওয়ার ধারণা ও প্রস্তুতি নিয়ে যে সীমাবদ্ধতা উঠে এসেছে, তা দেখায়—শুধু সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা বললেই হবে না; কেমন বাবা হতে চাই, কীভাবে প্রস্তুত হব এবং পরিবারের জন্য কীভাবে দায়িত্ব নেব—এসব নিয়েও কথা বলা দরকার। 


শেষ কথা,  একজন পুরুষকে আমরা প্রায়ই বলি—


“এখন তুমি বাবা, তোমার দায়িত্ব অনেক।”কিন্তু তার আগে খুব কমই বলি— “বাবা হওয়ার জন্য মানসিক প্রস্তুতি নাও।’’ হয়তো এটাই সময় কথাটা বদলানোর। কারণ সন্তান জন্মের সঙ্গে শুধু একটি শিশুর পৃথিবীতে আসা ঘটে না।


একজন পুরুষেরও নতুন একটি পরিচয়ের জন্ম হয়। বাবা। আর সেই পরিচয়টি যতটা গুরুত্বপূর্ণ সন্তানের জন্য, ততটাই গুরুত্বপূর্ণ একজন পুরুষের নিজের জীবনের জন্য। তাই সন্তান নেওয়ার আগে শুধু একটি প্রশ্ন নয়, দুটো প্রশ্ন করা দরকার—


“আমরা কি সন্তান নেওয়ার জন্য প্রস্তুত?” এবং তার সঙ্গে— “আমি কি বাবা হওয়ার জন্য প্রস্তুত?”


দ্বিতীয় প্রশ্নটির উত্তর খোঁজার সময় এসেছে।


sidebar ad