পুরুষের ভালো থাকার গল্পে যৌনস্বাস্থ্যও জরুরি

প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ছবি: প্রতীকী
ছবি: প্রতীকী

একদিন হঠাৎ হয়তো খেয়াল করলেন—শরীরটা যেন আগের মতো সাড়া দিচ্ছে না। যৌন আগ্রহ কমে গেছে, অথবা উত্থান ঠিকমতো হচ্ছে না। মনে হতে পারে, ‘বয়স হয়েছে, এটাই হয়তো স্বাভাবিক।’ কিন্তু সবসময় কারণটা বয়স নয়।


একজন পুরুষের যৌনস্বাস্থ্য তার সামগ্রিক শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। ঘুমের অভ্যাস, ওজন, শরীরচর্চা, খাবার, ধূমপান, মানসিক চাপ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ—জীবনের নানা বিষয়ই যৌনস্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই যত্নটাও শুরু হোক প্রতিদিনের ছোট ছোট অভ্যাস থেকে।


শরীরকে একটু নড়তে দিন


সারাদিন অফিসে বসে থাকা, গাড়িতে যাতায়াত, আর দিনের শেষে সোফায় বসে থাকা—এভাবেই যদি প্রতিদিন কেটে যায়, শরীর একসময় তার প্রভাব দেখাতেই পারে।


নিয়মিত হাঁটা ও শরীরচর্চা হৃদ্‌স্বাস্থ্য এবং রক্তসঞ্চালনের জন্য উপকারী। আর যেহেতু যৌন উত্তেজনার সময় পর্যাপ্ত রক্তপ্রবাহ গুরুত্বপূর্ণ, তাই সক্রিয় জীবনযাপন যৌনস্বাস্থ্যের যত্নেও ভূমিকা রাখতে পারে।


জিমে যাওয়ার সময় নেই?


হাঁটুন। নিয়মিত হাঁটুন।


শুরুটা ছোট হলেও, অভ্যাসটা নিয়মিত হওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।


আয়নার সামনে শুধু চেহারা নয়, পেটের দিকেও তাকান


ভুঁড়ি নিয়ে আমরা প্রায়ই মজা করি। কিন্তু অতিরিক্ত ওজনের সঙ্গে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে—আর এসব শারীরিক সমস্যার সঙ্গে যৌনস্বাস্থ্যেরও সম্পর্ক রয়েছে।


তাই ওজন নিয়ন্ত্রণ শুধু দেখতে ভালো লাগার বিষয় নয়।


এটা নিজের শরীরকে আরও অনেক বছর সুস্থ রাখারও একটি উপায়।


সিগারেটকে ছোট করে দেখবেন না


চাপের সময় একটা সিগারেট, আড্ডায় আরেকটা—এভাবেই ধীরে ধীরে ধূমপান জীবনের অভ্যাস হয়ে যায়।


কিন্তু ধূমপান রক্তনালির ক্ষতি করতে পারে। যৌন উত্তেজনার সময় শরীরের নির্দিষ্ট অংশে পর্যাপ্ত রক্তপ্রবাহ প্রয়োজন হওয়ায় ধূমপান যৌনস্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।


তাই ধূমপান ছাড়ার চেষ্টা করুন। একা কঠিন মনে হলে চিকিৎসক বা ধূমপান ছাড়ার সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।


শরীরের যত্ন নেওয়ার কোনো বয়সসীমা নেই।


ঘুমের হিসাবটাও রাখুন


রাত জেগে কাজ, মোবাইলের পর্দা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা—সব মিলিয়ে ঘুমটা কখন যে জীবন থেকে হারিয়ে যায়, অনেক সময় টেরই পাওয়া যায় না।


অথচ ভালো ঘুম শরীর ও মনের সুস্থতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিনের ঘুমের সমস্যা যৌন আগ্রহ ও যৌন সক্ষমতার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।


নিয়মিত জোরে নাক ডাকা, ঘুমের মধ্যে শ্বাস আটকে আসা কিংবা দিনের বেলা অস্বাভাবিক ঘুমঘুম ভাব থাকলে বিষয়টি অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।


মাথার ভেতরের চাপও শরীর বহন করে


ব্যবসা, চাকরি, অর্থনৈতিক চাপ, পরিবার, ভবিষ্যৎ—একজন মানুষের চিন্তার তালিকা কখনো কখনো শেষ হয় না।


অনেক পুরুষ এসব কথা কাউকে বলেন না।


বাইরে থেকে স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করেন, অথচ ভেতরে ভেতরে হয়তো ক্লান্ত হয়ে পড়েন।


দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ যৌন আগ্রহ ও যৌন সক্ষমতার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই নিজের জন্য কিছুটা সময় রাখুন। হাঁটুন, বিশ্রাম নিন, পছন্দের কাজ করুন, কাছের মানুষের সঙ্গে কথা বলুন।


সবকিছু একা সামলাতে হয় না।


‘শক্তিবর্ধক’ ওষুধের পেছনে ছুটবেন না


যৌনক্ষমতা বাড়ানোর নামে বাজারে নানা ধরনের ওষুধ ও সাপ্লিমেন্ট পাওয়া যায়। বিজ্ঞাপনে থাকে নানা রকম আকর্ষণীয় প্রতিশ্রুতি।


কিন্তু অজানা উৎসের ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট নিজের ইচ্ছায় খাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।


সমস্যা হলে বিজ্ঞাপনের ওপর ভরসা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।


সমস্যা হলে চুপ করে থাকবেন না


এক-দুবার শরীর আগের মতো সাড়া না দিলেই আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু সমস্যা যদি বারবার হয় কিংবা দীর্ঘদিন ধরে থাকে, তাহলে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা উচিত।


উত্থানজনিত সমস্যা, যৌন আগ্রহে দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন, দ্রুত বীর্যপাত কিংবা যৌনমিলনের সময় ব্যথা—এসব বিষয় নিয়ে চিকিৎসা ও পরামর্শ নেওয়া যায়।


লজ্জা বা সংকোচের কারণে চুপ করে থাকার প্রয়োজন নেই।


যৌনস্বাস্থ্যও স্বাস্থ্যেরই অংশ।


আর সঙ্গীর সঙ্গে কথা বলুন


যৌনস্বাস্থ্য শুধু শরীরের বিষয় নয়; এর সঙ্গে সম্পর্কেরও যোগ রয়েছে।


কোনো সমস্যা হলে সঙ্গীর কাছ থেকে দূরে সরে না গিয়ে কথা বলুন। কারণ হতে পারে ক্লান্তি, মানসিক চাপ, শারীরিক অসুস্থতা কিংবা সম্পর্কের টানাপোড়েন।


অভিযোগের বদলে শুরু হোক কথোপকথন।


অনেক সময় একটি খোলামেলা কথাই দুজন মানুষের মধ্যকার দূরত্ব কমিয়ে দিতে পারে।


ভালো থাকার কোনো জাদুর ওষুধ নেই


পুরুষের যৌনস্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য কোনো একক জাদুর সমাধান নেই। আছে প্রতিদিনের যত্ন—নিয়মিত হাঁটা ও শরীরচর্চা, স্বাস্থ্যকর খাবার, ওজন নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত ঘুম, ধূমপান থেকে দূরে থাকা, মানসিক চাপকে গুরুত্ব দেওয়া এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।


সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—


যৌনক্ষমতাকে পুরুষত্বের পরীক্ষা হিসেবে দেখবেন না। শরীরের অন্য যেকোনো সমস্যার মতো এটিও একটি স্বাস্থ্যগত বিষয়। প্রয়োজন হলে সাহায্য নেওয়া স্বাভাবিক। নিজের শরীরের যত্ন নেওয়া দুর্বলতা নয়। এটাই নিজের প্রতি দায়িত্ব।

sidebar ad