নারী স্বাধীনতা, পোশাক এবং সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরলেন কৃতি শ্যানন

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কৃতি শ্যানন। ছবি: সংগৃহীত
কৃতি শ্যানন। ছবি: সংগৃহীত

পোশাক নিয়ে বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না বলিউড অভিনেত্রী কৃতি শ্যাননের। কয়েক সপ্তাহ আগেই একটি গহনার বিজ্ঞাপনে তাঁর পোশাক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন অভিনেত্রী। এবার নারীর স্বাধীনতা, পোশাক এবং সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরে ফের আলোচনায় এসেছেন তিনি।



সম্প্রতি ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে একটি পোস্ট শেয়ার করেন কৃতি। সেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, নারীর অধিকার ও স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনা কোনোভাবেই ‘পুরুষ বনাম নারী’র লড়াই নয়। বরং এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতা এবং সেই মানসিকতাকে সমর্থন করে চলা মানুষের ভূমিকা।



পোস্টটিতে বলা হয়, এটি নারীদের সঙ্গে পিতৃতান্ত্রিক ও নারীবিদ্বেষী মানসিকতার লড়াই। এমনকি যেসব নারী পিতৃতন্ত্রকে ‘ঐতিহ্য’ হিসেবে মেনে নেন, তাদের মানসিকতার দিকেও ইঙ্গিত করা হয়েছে।


কৃতির এই পোস্ট সামনে আসে ভারতের বিহারের জমুইয়ে এক কিশোরী ও তার সহপাঠীকে আটকে রেখে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা চলার সময়। ১৯ সেপ্টেম্বরের ওই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ মামলা করে এবং কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের খবরও আসে।


তবে কৃতি তাঁর পোস্টে জমুইয়ের ওই ঘটনার নাম উল্লেখ করেননি। তাঁর পোস্টের সময়কাল ও বিষয়বস্তুর সঙ্গে সাম্প্রতিক ঘটনাটির মিল থাকায় ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তাই তাঁর বক্তব্যকে নির্দিষ্ট কোনো ঘটনার সরাসরি প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখার ক্ষেত্রে সতর্কতাও রয়েছে।


শুধু নিজের পোস্ট শেয়ার করেই থামেননি কৃতি। নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা এবং অভিনেত্রীদের পোশাক নিয়ে সমাজের প্রতিক্রিয়ার পার্থক্য তুলে ধরা আরেকটি পোস্টেও ‘লাইক’ দিয়েছেন তিনি। সেই পোস্টে প্রশ্ন তোলা হয়েছে—নারীর পোশাক নিয়ে যেভাবে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভ দেখা যায়, নারী নির্যাতন, গার্হস্থ্য সহিংসতা কিংবা পণপ্রথাজনিত মৃত্যুর মতো ঘটনাগুলোতেও কি একই মাত্রায় সামাজিক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়?


কৃতির এমন অবস্থান অবশ্য একেবারে নতুন নয়। এর আগে গত আগস্টে রাখিবন্ধন উপলক্ষে একটি গহনার বিজ্ঞাপনে তাঁর পোশাক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। বিজ্ঞাপনে অভিনেত্রীর আধুনিক পোশাক নিয়ে সমালোচনা করেন অনেকে।


পরে সেই সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে কৃতি বলেছিলেন, উৎসবের মূল বিষয় আবেগ ও ঐতিহ্য। কোনো নারীর পোশাকের ধরন দিয়ে তাঁর সংস্কৃতির প্রতি সম্মান বা ভালোবাসা বিচার করা উচিত নয়—এমন বক্তব্যই তুলে ধরেছিলেন তিনি।


বিতর্কের পর সংশ্লিষ্ট গহনা প্রতিষ্ঠান বিজ্ঞাপনটি সরিয়ে নেয়। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, কারও অনুভূতিতে আঘাত করা তাদের উদ্দেশ্য ছিল না। সম্মানের বিষয়টি বিবেচনা করেই বিজ্ঞাপনটি সব মাধ্যম থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।


সেই বিতর্কের কয়েক সপ্তাহ পর আবারও নারীর পোশাক, স্বাধীনতা ও পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতা নিয়ে কৃতির পোস্ট নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে এবারও অভিনেত্রী কোনো নির্দিষ্ট ঘটনার সঙ্গে তাঁর বক্তব্যকে সরাসরি যুক্ত করেননি।


ফলে কৃতির পোস্টকে ঘিরে তৈরি হওয়া আলোচনা মূলত একটি বৃহত্তর সামাজিক প্রশ্ন সামনে আনছে—একজন নারীর পোশাক নিয়ে সমাজের বিচার কতটা যৌক্তিক, আর নারীর নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে একই সমাজ কতটা সোচ্চার? কৃতির বক্তব্য সেই বিতর্কেই নতুন করে আলো ফেলেছে।

sidebar ad