বয়স বাড়ার সঙ্গে চুল পাকা স্বাভাবিক। তবে অনেকের ক্ষেত্রে অল্প বয়সেই চুলে রুপালি আভা দেখা দিতে শুরু করে। কারও কারও কৈশোরেই চুল পাকতে শুরু করে, আবার কারও ক্ষেত্রে ২০ বা ৩০-এর কোঠায় এই পরিবর্তন দেখা যায়। অল্প বয়সে চুল পাকার পেছনে বংশগত কারণ থেকে শুরু করে কিছু শারীরিক সমস্যা ও জীবনযাপনের প্রভাব থাকতে পারে।
১. বংশগত কারণ: অল্প বয়সে চুল পাকার অন্যতম প্রধান কারণ বংশগত বৈশিষ্ট্য। পরিবারের বাবা-মা বা অন্য সদস্যদের চুল যদি কম বয়সে পেকে থাকে, তাহলে পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যেও একই প্রবণতা দেখা দিতে পারে।
২. ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি: শরীরে ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি চুলের স্বাভাবিক রঞ্জকতা বা রং তৈরির প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে খাদ্যাভ্যাসে ঘাটতি থাকলে বা শরীরে ভিটামিন শোষণে সমস্যা হলে বি১২-এর ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তবে বি১২-এর ঘাটতি থাকলেই যে চুল পাকবে, এমন নয়।
৩. থাইরয়েডের সমস্যা: থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্যহীনতা চুলের বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে থাইরয়েডের সমস্যার সঙ্গে অল্প বয়সে চুল পাকার সম্পর্ক দেখা যায়। চুল পাকার পাশাপাশি অতিরিক্ত চুল পড়া, ওজনের পরিবর্তন বা দুর্বলতার মতো উপসর্গ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
৪. দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ: দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ চুলের রঞ্জকতা তৈরির কোষের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে প্রতিদিনের স্বাভাবিক দুশ্চিন্তাই চুল পাকার একমাত্র কারণ—এমন প্রমাণ নেই। বংশগত প্রবণতা ও অন্যান্য কারণও এখানে ভূমিকা রাখতে পারে।
৫. ধূমপানের অভ্যাস: ধূমপানের সঙ্গে অল্প বয়সে চুল পাকার সম্পর্ক নিয়ে গবেষণায় উদ্বেগজনক তথ্য পাওয়া গেছে। ধূমপান চুলের ফলিকল ও রঞ্জকতা তৈরির কোষে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বাড়াতে পারে। তাই চুলের স্বাস্থ্যসহ সামগ্রিক সুস্থতার জন্য ধূমপান এড়িয়ে চলা জরুরি।
৬. অটোইমিউন বা অন্যান্য শারীরিক সমস্যা: কিছু অটোইমিউন রোগ, যেমন ভিটিলিগো বা অ্যালোপেসিয়া অ্যারিয়াটা, চুলের রং বা চুলের বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলতে পারে। এ ছাড়া কিছু ক্ষেত্রে পুষ্টির ঘাটতি বা অন্যান্য শারীরিক সমস্যার সঙ্গেও অল্প বয়সে চুল পাকার সম্পর্ক থাকতে পারে।
কী করবেন?
অল্প বয়সে চুল পাকা সবসময় কোনো রোগের লক্ষণ নয়। অনেকের ক্ষেত্রে এটি সম্পূর্ণ বংশগত ও স্বাভাবিক একটি পরিবর্তন। তবে হঠাৎ দ্রুত চুল পাকতে শুরু করলে বা এর সঙ্গে চুল পড়া, দুর্বলতা, ত্বকের রং পরিবর্তন কিংবা অন্য কোনো উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
সুষম খাবার খাওয়া, ধূমপান এড়িয়ে চলা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ চুল ও শরীরের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। চুল পাকা শুরু হলে তা নিশ্চিতভাবে আগের রঙে ফিরিয়ে আনার কোনো প্রমাণিত ঘরোয়া উপায় নেই। কারণ অনুযায়ী চিকিৎসা প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
মনে রাখবেন: অল্প বয়সে চুল পাকা মানেই শরীরে কোনো রোগ বাসা বেঁধেছে—এমন নয়। তবে পরিবর্তনটি হঠাৎ হলে বা অন্য উপসর্গের সঙ্গে দেখা দিলে অবহেলা না করাই ভালো।
তথ্যসূত্র: International Journal of Dermatology