বয়স থামানো যায় না, কিন্তু নিজের যত্ন নেওয়া যায়। ৪০-এর পর আয়নায় নিজের মুখের দিকে তাকালে অনেকেরই চোখে পড়ে গালের ফার্মনেস আগের মতো নেই, জওলাইন কিছুটা নরম হয়ে গেছে, চিবুকের নিচে জমেছে বাড়তি মেদ কিংবা ত্বকে দেখা দিয়েছে সূক্ষ্ম রেখা।
এগুলো বয়স বাড়ার স্বাভাবিক অংশ। বয়সের সঙ্গে ত্বকের গঠন, কোলাজেন এবং মুখের
নিচের টিস্যুতে পরিবর্তন আসে ফলে ত্বক কিছুটা ঢিলে ও কম ফার্ম মনে হতে পারে।
এই পরিবর্তন মোকাবিলায় ইদানীং জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ফেস যোগা বা facial
exercise।
কিন্তু প্রশ্ন হলো এটি কি সত্যিই মুখ টানটান করতে পারে?
গবেষণা কী বলছে?
২০১৮ সালে JAMA Dermatology-তে প্রকাশিত একটি ছোট গবেষণায় ৪০–৬৫ বছর বয়সী নারীদের
একটি দলকে নির্দিষ্ট facial exercises করানো হয়েছিল।
প্রথম ৮ সপ্তাহ প্রতিদিন ৩০ মিনিট এবং পরবর্তী ১২ সপ্তাহ সপ্তাহে ৩–৪ দিন অনুশীলন করা
হয়। ২০ সপ্তাহ পর গবেষকরা মুখের ওপরের ও নিচের গালের fullness বা ভরাটভাবের
কিছু উন্নতি লক্ষ্য করেন।
অংশগ্রহণকারীদের মুখের বয়সের অনুমানও গবেষণার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কিছুটা
কমেছিল। তবে গবেষণাটিতে মাত্র ১৬ জন অংশগ্রহণকারীর পূর্ণ তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছিল
এবং কোনো control group ছিল না।
তাই এটিকে চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে ধরা যায় না।
এরও আগে একটি systematic review-তে facial exercise নিয়ে পাওয়া গবেষণাগুলোর প্রমাণকে অপর্যাপ্ত বলা হয়েছিল। অর্থাৎ, ফেস যোগার সম্ভাবনা আছে, কিন্তু এটি যে নিশ্চিতভাবে ঝুলে যাওয়া ত্বক টেনে দেবে এমন শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনো নেই।
তাহলে ৪০-এর পর ফেস যোগা করবেন কেন?
ফেস যোগাকে ‘ম্যাজিক লিফটিং’ হিসেবে না দেখে মুখের পেশির ব্যায়াম হিসেবে
দেখা বেশি যুক্তিযুক্ত।
নিয়মিত অনুশীলন মুখের কিছু পেশিকে সক্রিয় রাখতে এবং মুখের movement ও
muscle tone-এ সহায়তা করতে পারে। বিশেষ করে গাল, চোয়াল ও ঘাড়ের পেশিকে লক্ষ্য করে কিছু
ব্যায়াম করা যায়।
১০ মিনিটের সহজ ফেস-যোগা রুটিন-
Chin Lift — ১ মিনিট:
মাথা সামান্য পেছনে নিয়ে ছাদের দিকে তাকান। ঠোঁট সামনে এনে চুমু দেওয়ার
মতো ভঙ্গি করুন। কয়েক সেকেন্ড ধরে রেখে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরুন।
Cheek Lift — ২ মিনিট:
মুখে স্বাভাবিক বড় হাসি আনুন। গালের পেশি ওপরের দিকে তোলার চেষ্টা করুন।
কয়েক সেকেন্ড ধরে রেখে ছেড়ে দিন। কয়েকবার পুনরাবৃত্তি করুন।
O–E Exercise — ১ মিনিট:
মুখ দিয়ে ধীরে বড় করে ‘O’ আকৃতি তৈরি করুন। এরপর ‘E’ আকৃতি করুন। এভাবে
১৫–২০ বার করুন।
Jawline Exercise — ২ মিনিট:
মুখ স্বাভাবিকভাবে বন্ধ রেখে জিহ্বা তালুর সঙ্গে রাখুন। চোয়ালকে আরামদায়কভাবে
সামান্য ওপরে তোলার চেষ্টা করুন। কয়েক সেকেন্ড ধরে রেখে ছেড়ে দিন।
Neck Stretch — ২ মিনিট:
মাথা ধীরে ডান দিকে, তারপর বাম দিকে ঘোরান। এরপর সামান্য ওপরের দিকে তাকিয়ে
ঘাড়ের সামনের অংশ হালকা stretch করুন। কোনো অবস্থাতেই ব্যথা বা অতিরিক্ত টান অনুভব
করা উচিত নয়।
Gentle Massage — ২ মিনিট:
ময়েশ্চারাইজার বা উপযুক্ত facial product ব্যবহার করে খুব হালকা হাতে চিবুক
থেকে জওলাইন এবং গালের দিকে ওপরের দিকে ম্যাসাজ করা যেতে পারে। ত্বক জোরে টেনে ধরা
বা ঘষা উচিত নয়।
শুধু ফেস যোগা নয়, স্কিন কেয়ারের ভিত্তিটাও জরুরি:
৪০-এর পর মুখের তারুণ্য ধরে রাখতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি
হলো সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করা।
American Academy of Dermatology প্রতিদিন broad-spectrum SPF 30 বা তার
বেশি সানস্ক্রিন ব্যবহারের পরামর্শ দেয়, কারণ অতিরিক্ত UV exposure অকাল ত্বক বার্ধক্য,
বলিরেখা ও sagging-এর সঙ্গে সম্পর্কিত।
ত্বকের প্রয়োজন অনুযায়ী moisturizer এবং কিছু ক্ষেত্রে
retinol/retinoid-জাতীয় উপাদানও anti-aging skincare-এর অংশ হতে পারে।
তবে sensitive skin, pregnancy বা নির্দিষ্ট ত্বকের সমস্যায় এগুলো ব্যবহারের
আগে dermatologist-এর পরামর্শ নেওয়া ভালো।
কিছু বিষয় মনে রাখা জরুরি-
ফেস যোগা করার সময় মুখ বা ঘাড়ে ব্যথা, চোয়ালে clicking, মাথা ঘোরা কিংবা
অস্বস্তি হলে ব্যায়াম বন্ধ করতে হবে।
আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা ফেস যোগা মুখের অতিরিক্ত চর্বি গলিয়ে দেবে
বা ঝুলে যাওয়া ত্বককে সার্জারির মতো টেনে দেবে এমন দাবি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়।
৪০-এর পর মুখের পরিবর্তন শুধু ত্বকের কারণে হয় না, ত্বক, চর্বি, পেশি ও
মুখের গভীর কাঠামো সবকিছুর পরিবর্তন এতে ভূমিকা রাখে।
শেষ কথা:
৪০ মানেই সৌন্দর্যের শেষ নয়। বরং এই বয়সে সৌন্দর্যের সংজ্ঞাটাই বদলে যায়।
আয়নার সামনে বয়সের সঙ্গে যুদ্ধ না করে নিজের শরীর, ত্বক ও মুখের যত্ন নেওয়াই হোক লক্ষ্য।
প্রতিদিন মাত্র ১০ মিনিট নিজের জন্য রাখুন।
ফেস যোগা করুন, সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন, পর্যাপ্ত ঘুম ও পুষ্টিকর খাবারের
দিকে নজর দিন।
বয়স বাড়ুক কিন্তু নিজের যত্ন যেন কমে না যায়।
তথ্যসূত্র: JAMA Dermatology, PubMed systematic review, এবং American Academy of Dermatology।