সারাদিন কাজের চাপ, শরীরে ক্লান্তি, চোখে ঘুমের ভাব তবুও রাতে বিছানায়
শুয়ে ঘুম আসে না। কখনো ঘণ্টার পর ঘণ্টা এপাশ-ওপাশ করতে হয়, আবার ঘুম এলেও বারবার ভেঙে
যায়। সকালে ঘুম থেকে উঠে মনে হয়,শরীর যেন বিশ্রামই পায়নি। এমন অভিজ্ঞতা অনেকেরই।
কিন্তু শরীর ক্লান্ত থাকার পরও ঘুম না আসার কারণ কী?
অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ: দিনভর নানা চিন্তা,
পারিবারিক সমস্যা, কাজের চাপ কিংবা ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ মস্তিষ্ককে অতিরিক্ত সক্রিয়
রাখে। ফলে শরীর বিশ্রাম চাইলে মন সহজে শান্ত হতে পারে না।
ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট হওয়া: প্রতিদিন ভিন্ন
সময়ে ঘুমানো, রাতে দীর্ঘক্ষণ মোবাইল ব্যবহার, বিকেল বা সন্ধ্যায় চা-কফি পান করা কিংবা
দিনের বেলা দীর্ঘ সময় ঘুমানো এসব কারণে শরীরের স্বাভাবিক ঘুমের ছন্দ ব্যাহত হতে পারে।
হরমোনের পরিবর্তন: থাইরয়েডের সমস্যা, নারীদের মাসিক
চক্র বা মেনোপজের সময় হরমোনের পরিবর্তন ঘুমে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে থাইরয়েড
অতিরিক্ত সক্রিয় হলে ঘুমের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
শারীরিক অসুস্থতা ও ওষুধের প্রভাব: দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা,
অ্যাসিডিটির অস্বস্তি, শ্বাসকষ্ট, কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং অন্যান্য শারীরিক
সমস্যাও অনিদ্রার কারণ হতে পারে।
ক্লান্তি আর ঘুম এক নয়: শরীর ক্লান্ত হলেই
মস্তিষ্কঘুমের জন্য প্রস্তুত হবে, এমন নয়। দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ ও অনিদ্রার কারণে
শরীর অবসন্ন থাকলেও মস্তিষ্ক সতর্ক অবস্থায় থাকতে পারে।
কী করবেন?
প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করুন। ঘুমের আগে
মোবাইল ব্যবহার কমান, সন্ধ্যার পর চা-কফি এড়িয়ে চলুন এবং শোবার আগে শান্ত পরিবেশ তৈরি
করুন। বিছানায় শুয়ে জোর করে ঘুমানোর চেষ্টা না করে কিছুক্ষণ মৃদু আলোয় শান্ত কোনো কাজ
করতে পারেন।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি?
ঘুমের সমস্যা কয়েক সপ্তাহ ধরে চললে, দিনের কাজ ব্যাহত হলে কিংবা অতিরিক্ত
ক্লান্তি, বুক ধড়ফড়, শ্বাসকষ্ট বা অন্য কোনো উপসর্গ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। প্রয়োজন
অনুযায়ী রক্তস্বল্পতা, থাইরয়েডের সমস্যা, ওষুধের প্রভাব ও মানসিক চাপের বিষয়গুলো মূল্যায়ন
করা যেতে পারে। নিজে থেকে ঘুমের ওষুধ খাওয়া ঠিক নয়।
মনে রাখুন, ঘুম শুধু বিশ্রাম নয়, শরীর ও মস্তিষ্কের সুস্থ থাকার অপরিহার্য
অংশ। তাই ক্লান্ত শরীর নিয়ে রাতের পর রাত নির্ঘুম কাটানোকে স্বাভাবিক ভেবে অবহেলা করবেন
না। কারণ বুঝে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়াই সুস্থ ঘুম ফিরে পাওয়ার প্রথম ধাপ।
ঢাকা/টিএ