দীর্ঘ সময় সাইকেল চালালে কী প্রজননক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়?

প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

সাইকেল চালানো শরীর সুস্থ রাখার অন্যতম উপায়। নিয়মিত সাইকেল চালালে হৃদ্‌যন্ত্র ভালো থাকে, শরীরের অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং শারীরিক সক্ষমতা বাড়ে। কিন্তু এই উপকারী ব্যায়ামই কি পুরুষের শুক্রাণুর সংখ্যা কমিয়ে দিতে পারে?


এ নিয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানে গবেষণা হয়েছে। কিছু গবেষণায় দীর্ঘ সময় ও অতিরিক্ত সাইকেল চালানোর সঙ্গে শুক্রাণুর ঘনত্ব ও গতিশীলতা কমে যাওয়ার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে সাইকেল চালালেই শুক্রাণু কমে যাবে কিংবা পুরুষের প্রজননক্ষমতা নষ্ট হবে।



গবেষণায় কী পাওয়া গেছে?


২০২৫ সালে প্রকাশিত একটি পদ্ধতিগত পর্যালোচনায় সাইকেল চালানো ও পুরুষের প্রজননক্ষমতার মধ্যকার সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে অন্তর্ভুক্ত দুটি পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণায় মোট ৪৮৭ জন সাইকেলচালকের তথ্য পর্যালোচনা করা হয়।


গবেষণায় দেখা যায়, সপ্তাহে দেড় ঘণ্টার বেশি সাইকেল চালানো পুরুষদের শুক্রাণুর ঘনত্ব তুলনামূলক কম হওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। আর সপ্তাহে পাঁচ ঘণ্টার বেশি সাইকেল চালানোর সঙ্গে শুক্রাণুর ঘনত্ব ও গতিশীলতা কম থাকার সম্পর্ক পাওয়া যায়।


তবে গবেষকেরা স্পষ্ট করেছেন, সাইকেল চালানোর কারণে সরাসরি বন্ধ্যত্ব তৈরি হয় কি না, তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। কারণ, কোনো দুটি বিষয়ের মধ্যে সম্পর্ক পাওয়া গেলেই একটিকে অন্যটির সরাসরি কারণ বলা যায় না।



কেন প্রভাব পড়তে পারে?


দীর্ঘ সময় সাইকেলের আসনে বসে থাকলে পুরুষের যৌনাঙ্গ ও তার আশপাশের এলাকায় চাপ পড়তে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘক্ষণ সাইকেল চালানোর সময় পেরিনিয়াম বা অণ্ডথলি ও মলদ্বারের মধ্যবর্তী অঞ্চলে চাপ তৈরি হতে পারে।


এ ছাড়া দীর্ঘ সময়ের অনুশীলন, অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম এবং শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলোও প্রজননস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সাইকেল চালানোর ক্ষেত্রে এসব বিষয় শুক্রাণুর ওপর ঠিক কতটা প্রভাব ফেলে, তা এখনো পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত নয়।



সব সাইকেলচালকের কি শুক্রাণু কমে যায়?


২০২৪ সালে প্রকাশিত একটি পদ্ধতিগত পর্যালোচনায় দৌড়বিদ, সাইকেলচালক ও ট্রায়াথলন অ্যাথলেটদের নিয়ে করা ১৩টি গবেষণা বিশ্লেষণ করা হয়। অংশগ্রহণকারী ছিলেন মোট ২৮০ জন।


পর্যালোচনায় দেখা যায়, কিছু গবেষণায় শুক্রাণুর গুণগত মানে পরিবর্তন পাওয়া গেলেও অন্য কয়েকটি গবেষণায় উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন পাওয়া যায়নি। অধিকাংশ ক্ষেত্রে পরিবর্তনগুলো পুরুষের প্রজননক্ষমতায় clinically significant বা চিকিৎসাগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে, এমন প্রমাণও পাওয়া যায়নি।


গবেষকেরা আরও জানিয়েছেন, এ বিষয়ে বিদ্যমান গবেষণার সংখ্যা কম এবং সেগুলোর মানও সীমিত। তাই সাইকেল চালানো ও পুরুষের প্রজননক্ষমতার সম্পর্ক নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ এখনো নেই।



তাহলে কীভাবে সতর্ক থাকবেন?



সাইকেল চালানো বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। বরং দীর্ঘ সময় সাইকেল চালালে কিছু অভ্যাস অনুসরণ করতে পারেন:


দীর্ঘক্ষণ একটানা সাইকেল না চালিয়ে মাঝেমধ্যে বিরতি নিন।


শরীরের সঙ্গে মানানসই সাইকেল ও আরামদায়ক আসন ব্যবহার করুন।


সাইকেল চালানোর সময় যৌনাঙ্গে অসাড়তা, ব্যথা বা অস্বস্তি হলে বিরতি নিন এবং আসন ও সাইকেলের অবস্থান ঠিক আছে কি না দেখুন।


নিয়মিত ব্যায়ামের পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাবার ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে গুরুত্ব দিন।



সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করেও দীর্ঘদিন সফল না হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। প্রয়োজনে বীর্য পরীক্ষা করে শুক্রাণুর সংখ্যা, গতিশীলতা ও গঠন সম্পর্কে জানা যায়।



সাইকেল চালানো স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। তবে দীর্ঘ সময় ও অতিরিক্ত সাইকেল চালানোর সঙ্গে শুক্রাণুর কিছু বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তনের সম্পর্ক থাকতে পারে বলে গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এখন পর্যন্ত প্রমাণ এতটা শক্তিশালী নয় যে সাধারণভাবে সাইকেল চালালেই পুরুষের শুক্রাণু কমে যায় বা বন্ধ্যত্ব তৈরি হয়।



সূত্র: The Association between Cycling and Male Infertility: A Systematic Review of Current Research


sidebar ad