কাজ, পরিবার, সম্পর্ক কিংবা ভবিষ্যৎ—জীবনের নানা বিষয় নিয়ে চিন্তা হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু কোনো বিষয় নিয়ে বারবার ভাবা, খারাপ কিছু ঘটার আশঙ্কায় থাকা কিংবা চিন্তা থামাতে না পারা যদি দীর্ঘদিন চলতে থাকে, তাহলে তা স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
উদ্বেগজনিত সমস্যা
অতিরিক্ত ও দীর্ঘস্থায়ী দুশ্চিন্তা থেকে উদ্বেগজনিত সমস্যা তৈরি বা বেড়ে যেতে পারে। এর সঙ্গে অস্থিরতা, অতিরিক্ত ভয়, মনোযোগে সমস্যা, ঘুমের ব্যাঘাত ও সব সময় খারাপ কিছু ঘটবে—এমন অনুভূতি থাকতে পারে।
ঘুমের সমস্যা
চিন্তা বেশি হলে মস্তিষ্ক সহজে শান্ত হতে পারে না। ফলে ঘুম আসতে দেরি হওয়া, রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া কিংবা সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরও ক্লান্ত লাগতে পারে।
উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদ্যন্ত্রের ঝুঁকি
দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ শরীরে স্ট্রেস-সম্পর্কিত হরমোনের মাত্রা বাড়াতে পারে এবং রক্তচাপ ও হৃদ্যন্ত্রের ওপর চাপ ফেলতে পারে। দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ হৃদ্রোগের অন্যান্য ঝুঁকির সঙ্গেও সম্পর্কিত।
হজমের সমস্যা
মানসিক চাপের সঙ্গে মস্তিষ্ক ও অন্ত্রের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। অতিরিক্ত দুশ্চিন্তায় কারও পেটে অস্বস্তি, বদহজম, পেটব্যথা বা ডায়রিয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। যাদের ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (IBS) আছে, তাদের উপসর্গও বেড়ে যেতে পারে।
মাথাব্যথা ও পেশিতে ব্যথা
দীর্ঘসময় টেনশনে থাকলে ঘাড়, কাঁধ ও মাথার পেশিতে টান তৈরি হতে পারে। এর ফলে টেনশন-টাইপ মাথাব্যথা বা শরীরের বিভিন্ন অংশে ব্যথা অনুভূত হতে পারে।
অবসাদ ও মানসিক ক্লান্তি
একই বিষয় নিয়ে বারবার ভাবতে থাকলে মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়া স্বাভাবিক। দীর্ঘস্থায়ী উদ্বেগের সঙ্গে বিষণ্নতার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
কী করবেন?
চিন্তা পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। তবে নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম, স্বাস্থ্যকর খাবার, শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম, কাছের মানুষের সঙ্গে কথা বলা এবং নিজের জন্য কিছুটা সময় রাখা উপকারী হতে পারে।
যদি অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা দৈনন্দিন কাজ, ঘুম, সম্পর্ক বা স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বাধা সৃষ্টি করে, তাহলে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। আর বুকব্যথা, শ্বাসকষ্ট, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা অন্য কোনো গুরুতর শারীরিক উপসর্গ হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
তথ্যসূত্র: মায়ো ক্লিনিক