কোলন ক্যানসার নিয়ে অনেকের মনে একটি প্রশ্ন থাকে—পুরুষের তুলনায় নারীদের কি এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি? বাস্তবে সামগ্রিকভাবে কোলন ও রেকটাল ক্যানসারের ঝুঁকি নারীদের তুলনায় পুরুষদের বেশি। তবে নারীদের ক্ষেত্রেও এই ক্যানসারের ঝুঁকি উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষ করে ৪৫ বছর বা তার বেশি বয়সে নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ের বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। তবে পারিবারিক ইতিহাস বা কিছু ঝুঁকিপূর্ণ শারীরিক অবস্থার ক্ষেত্রে আরও কম বয়স থেকেই পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে।
নারীদের যেসব বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি
কোলন ক্যানসারের ক্ষেত্রে কিছু ঝুঁকি নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই প্রযোজ্য। যেমন—
১. পরিবারে কোলন বা রেকটাল ক্যানসারের ইতিহাস থাকা
২. অন্ত্রে পলিপ হওয়ার ইতিহাস
৩. অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা
৪. শারীরিকভাবে কম সক্রিয় থাকা
৫. ধূমপান
৬. অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ
৭. প্রক্রিয়াজাত ও লাল মাংস বেশি খাওয়া
৮. দীর্ঘদিনের কিছু অন্ত্রের প্রদাহজনিত রোগ
এ ছাড়া বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নারীদের ঝুঁকিও বাড়তে থাকে। তাই শুধু নারী হওয়ার কারণে ঝুঁকি বেশি—এমন ধারণা ঠিক নয়; বরং ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ঝুঁকিগুলো বিবেচনা করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
কোন লক্ষণগুলো অবহেলা করবেন না?
কোলন ক্যানসারের শুরুতে অনেক সময় স্পষ্ট কোনো উপসর্গ নাও থাকতে পারে। তবে নিচের লক্ষণগুলো দীর্ঘদিন থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন, যেমন দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া; মলের সঙ্গে রক্ত; পেটে ব্যথা, অস্বস্তি বা পেট ফাঁপা; অকারণে ওজন কমে যাওয়া; অতিরিক্ত দুর্বল বা ক্লান্ত লাগা এবং মলত্যাগের পরও পেট পুরোপুরি পরিষ্কার হয়নি—এমন অনুভূতি। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে মলের রক্তপাতকে অনেক সময় পাইলস বা অন্য সাধারণ সমস্যার লক্ষণ মনে করে উপেক্ষা করা হয়। কিন্তু কারণ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এমন উপসর্গকে অবহেলা করা উচিত নয়।
সচেতনতাই গুরুত্বপূর্ণ
কোলন ক্যানসার অনেক ক্ষেত্রেই সময়মতো শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসাযোগ্য। তাই বয়স ও ব্যক্তিগত ঝুঁকি অনুযায়ী নিয়মিত স্ক্রিনিং করা, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, নিয়মিত শরীরচর্চা করা এবং আঁশসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণের অভ্যাস গড়ে তোলা গুরুত্বপূর্ণ। মনে রাখতে হবে, নারীদের কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি পুরুষের তুলনায় বেশি নয়; বরং সামগ্রিকভাবে পুরুষদের ঝুঁকি বেশি। তবে নারীদেরও রোগটির লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্ক্রিনিং করানো জরুরি।
তথ্যসূত্র: CDC (Centers for Disease Control and Prevention)