প্রতিদিনের বায়ু দূষণ,অতিবেগুনী রশ্মি, মানসিক চাপ, অনিয়মিত ঘুম ও অস্বাস্থ্যকর খাবার শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বাড়িয়ে দিচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে নারীদের ত্বকে। এছাড়া কর্মক্ষমতা হ্রাস, ওজন কম বা বেশি অর্থাৎ অস্বাভাবিকতা ও মেটাবলিক স্বাস্থ্যে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটছে। বর্তমানে ইনফারটিলিটি, ইনসুলিন রেজিসট্যান্স, পিসিওস (পিএমওএস) সহ হরমোনাল ইমব্যালেন্স বৃদ্ধি পাচ্ছে।
নিজেকে ভালো রাখতে ছোট ছোট কিছু অভ্যাসই বড় পরিবর্তন আনতে সহায়ক হতে পারে। যেমন-
১. দিনের যেকোনো বেলায় বা অফিস টাইমে ভাজাপোড়া স্ন্যাক্সের পরিবর্তে ফল
রাখুন। আপেল, পেয়ারা, কমলা, খেজুর, ড্রাগন, ডালিম বা মৌসুমি ফল সহজেই চুজ করা যায়।
ফল থেকে প্রাপ্ত ভিটামিন, মিনারেলস ও আ্যন্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের জন্য উপকারী।
২.যারা দীর্ঘসময় ডেস্ক জব করেন তারা প্রতি ৩০–৬০ মিনিট পরপর কয়েক মিনিট হাঁটার অভ্যাস
করুন। নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ বজায় রাখলে ইনসুলিন সেন্সিটিভিটি উন্নত করতে এবং ওজন
নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।এছাড়া অবসর সময়ে ইয়োগা, ডীপ ব্রিথিং এক্সারসাইজ মন ও
শরীর সতেজ রাখে।
৩. প্রতিদিন পর্যাপ্ত প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার ডায়েটে রাখুন।ডিম, মাছ, ডাল,
দই, দুধ, সয়া,বীজ ও বাদাম—দৈহিক চাহিদা অনুযায়ী খাবারে অন্তর্ভুক্ত
করুন। এতে দীর্ঘসময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে এবং বারবার ক্ষুধা লাগার প্রবণতা কমাতে
সাহায্য করে।
৪. অতিরিক্ত চিনি বা চিনিযুক্ত খাবার,সফট ড্রিংকস ও প্রক্রিয়াজাত খাবার-বিস্কুট,কুকিজ,পাউরুটি,
বেকারি আইটেম খাওয়ার অভ্যাস ইনসুলিন রেজিসট্যান্স ও ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়াতে পারে।তাই
এসব খাবার পরিহার করুন।
৫. ঘুমকে গুরুত্ব দিন।পর্যাপ্ত ও নিয়মিত ঘুম রুচি ও খাবার গ্রহণের ইচ্ছা,মানসিক
চাপ ও মেটাবলিক সমস্যা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ।
নারীর সুস্থতা মানে শুধু রোগ না থাকা নয়; বরং গাট-ব্রেইন স্বাস্থ্যের উন্নতি, পরিমিত ওজন এবং নিজের প্রতি যত্নের অভ্যাস তৈরি করা।
তাই আজ থেকেই শুরু হোক নিজের যত্ন।
[লেখা: পুষ্টিবিদ ইসরাত জাহান প্রিয়ানা,
এভার ড্রীম ফার্টিলিটি কেয়ার,ওয়ারী
হেমায়েতপুর সেন্ট্রাল হসপিটাল, সাভার]