৪২ বছর বয়সে মা হতে চলেছেন কারিশমা: এই বয়সে মাতৃত্ব কতটা নিরাপদ?

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬

৪২ বছর বয়সে মা হতে চলেছেন কারিশমা: এই বয়সে মাতৃত্ব কতটা নিরাপদ?

রোদসী ডেস্ক

বলিউড অভিনেত্রী কারিশমা তান্না ৪২ বছর বয়সে প্রথম সন্তানের মা হতে চলেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সুখবরটি জানানোর পর ভক্তদের শুভেচ্ছার পাশাপাশি নতুন করে আলোচনায় এসেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—৪০ পেরিয়ে মা হওয়া কী নিরাপদ?


একসময় ৩৫ বছরের পর গর্ভধারণকে খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দেখা হতো। তবে আধুনিক চিকিৎসা, উন্নত প্রজনন প্রযুক্তি এবং স্বাস্থ্যসচেতন জীবনযাপনের কারণে এখন অনেক নারী চল্লিশের পরও সফলভাবে মা হচ্ছেন। তবে চিকিৎসকদের মতে, এই বয়সে গর্ভধারণকে Advanced Maternal Age (AMA) হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অর্থাৎ গর্ভাবস্থায় কিছু বাড়তি সতর্কতা ও নিয়মিত চিকিৎসা পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।


৪০-এর পর গর্ভধারণে কী কী ঝুঁকি থাকে?

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নারীর ডিম্বাণুর সংখ্যা ও গুণগত মান কমতে থাকে। ফলে স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণের সম্ভাবনা কমে এবং কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে। যেমন—

  • গর্ভকালীন ডায়াবেটিস 
  • উচ্চ রক্তচাপ ও প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়া
  • গর্ভপাতের ঝুঁকি বৃদ্ধি
  • সময়ের আগেই প্রসব
  • সিজারিয়ান ডেলিভারির সম্ভাবনা বেশি
  • শিশুর ক্রোমোজোমজনিত সমস্যা, যেমন ডাউন সিনড্রোমের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি

তবে মনে রাখতে হবে, ঝুঁকি থাকলেই যে জটিলতা হবেই—এমন নয়। নিয়মিত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে অধিকাংশ নারী সুস্থ সন্তান জন্ম দিতে পারেন।


তাহলে কারা নিরাপদে মা হতে পারেন?

চিকিৎসকদের মতে, বয়সের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মায়ের সামগ্রিক স্বাস্থ্য।

যদি একজন নারীর—

  • ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে
  • ওজন স্বাভাবিক থাকে
  • ধূমপান ও অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকেন
  • নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান

জীবনযাপনে কী পরিবর্তন আনতে হবে?


১. গর্ভধারণের আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা

প্রেগন্যান্সি পরিকল্পনার আগে একজন গাইনোকোলজিস্টের সঙ্গে দেখা করা জরুরি। থাইরয়েড, ডায়াবেটিস, রক্তচাপসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত।


২. স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস

প্রতিদিন পর্যাপ্ত প্রোটিন, শাকসবজি, ফল, পূর্ণ শস্য, আয়রন, ক্যালসিয়াম ও ফোলিক অ্যাসিডসমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। অতিরিক্ত চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কমাতে হবে।


৩. নিয়মিত ব্যায়াম

চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতিদিন ২০–৩০ মিনিট হাঁটা, প্রেনাটাল যোগব্যায়াম বা হালকা ব্যায়াম শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। সাম্প্রতিক সময়ে কারিশমা টান্নাও নিয়মিত হাঁটা ও হালকা ব্যায়ামের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।


৪. পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ

প্রতিদিন ৭–৯ ঘণ্টা ঘুম, মেডিটেশন, বই পড়া কিংবা পরিবার-বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।


৫. ধূমপান ও অ্যালকোহল সম্পূর্ণ বর্জন

এগুলো গর্ভের শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত করতে পারে এবং নানা জটিলতার ঝুঁকি বাড়ায়।


৬. নিয়মিত প্রেনাটাল চেকআপ

৪০ বছরের পর গর্ভধারণে নিয়মিত আল্ট্রাসাউন্ড, রক্ত পরীক্ষা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী NIPT বা অন্যান্য স্ক্রিনিং টেস্ট করানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


আইভিএফ কী একমাত্র উপায়?

না। অনেক নারী ৪০-এর পর স্বাভাবিকভাবেই গর্ভধারণ করেন। তবে বয়সের কারণে ডিম্বাণুর মান কমে গেলে বা অন্য কোনো সমস্যা থাকলে IVF, ICSI কিংবা পূর্বে সংরক্ষিত ডিম্বাণু (Egg Freezing) ব্যবহার করা যেতে পারে। কোন পদ্ধতি প্রয়োজন হবে, তা নির্ভর করে ব্যক্তির স্বাস্থ্য ও চিকিৎসকের মূল্যায়নের ওপর।


চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে ৪০ বছরের পর মাতৃত্ব এখন আর বিরল নয়। তবে এটি এমন একটি সময়, যখন পরিকল্পিত গর্ভধারণ, নিয়মিত চিকিৎসা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বয়স শুধু একটি সংখ্যা—কিন্তু সুস্থ মা ও সুস্থ শিশুর জন্য সচেতনতা, সময়মতো পরীক্ষা এবং চিকিৎসকের পরামর্শের কোনো বিকল্প নেই।


কারিশমা তান্নার মাতৃত্বের খবর অনেক নারীর জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারে। তবে কোনো তারকার অভিজ্ঞতাকে সবার জন্য একইভাবে প্রযোজ্য ধরে নেওয়া ঠিক নয়। প্রত্যেক নারীর শারীরিক অবস্থা আলাদা। তাই ৪০-এর পর সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করলে প্রথম পদক্ষেপ হওয়া উচিত একজন অভিজ্ঞ স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করা।

sidebar ad