পেট ফাঁপা, অল্প খেলেই পেট ভরে যাওয়া, বারবার প্রস্রাবের বেগ কিংবা তলপেটে হালকা ব্যথা—এসবকে আমরা অনেক সময় গ্যাস, বদহজম বা দৈনন্দিন শারীরিক সমস্যার অংশ বলেই ধরে নিই। কিন্তু এসব উপসর্গ যদি বারবার ফিরে আসে বা স্বাভাবিকের তুলনায় নতুনভাবে দেখা দেয়, তাহলে একেবারে উপেক্ষা করা ঠিক নয়।
কারণ, ওভারিয়ান বা ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের লক্ষণ অনেক সময় খুবই সাধারণ এবং অস্পষ্ট হতে পারে। ফলে রোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
যে ছোট লক্ষণগুলো খেয়াল করতে হবে-
১. বারবার পেট ফাঁপা বা পেট ফুলে থাকা: মাঝে মাঝে পেট ফাঁপা স্বাভাবিক হতে পারে। কিন্তু নিয়মিত বা ক্রমাগত পেট ফাঁপা, পেটের আকার বেড়ে যাওয়া কিংবা অস্বাভাবিক ভারী লাগাকে অবহেলা করা উচিত নয়।
২. অল্প খেলেই পেট ভরে যাওয়া: আগের তুলনায় কম খাবারেই পেট ভরে যাচ্ছে? খাওয়ার পর অস্বস্তি হচ্ছে বা ক্ষুধা কমে যাচ্ছে? এমন পরিবর্তন দীর্ঘদিন থাকলে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা প্রয়োজন।
৩. তলপেট বা পেলভিসে ব্যথা: মাঝেমধ্যে পেটব্যথা হওয়ার অনেক কারণ থাকতে পারে। কিন্তু নতুন ধরনের বা বারবার হওয়া তলপেট, পেট কিংবা পেলভিসের ব্যথা নজরে রাখা জরুরি।
৪. ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ: পানি বেশি না খেলেও বারবার প্রস্রাবের প্রয়োজন হচ্ছে অথবা হঠাৎ তীব্র প্রস্রাবের বেগ অনুভূত হচ্ছে—এটিও ওভারিয়ান ক্যানসারের সম্ভাব্য উপসর্গগুলোর একটি। অবশ্য মূত্রনালির সংক্রমণসহ আরও অনেক কারণেও এমন হতে পারে।
৫. পেটের সমস্যা বারবার ফিরে আসা: গ্যাস, বদহজম, কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়ার মতো পরিবর্তনও কিছু ক্ষেত্রে দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে এসব সমস্যা যদি নতুন হয় এবং বারবার হতে থাকে, তাহলে কারণ খুঁজে দেখা জরুরি।
আরও যেসব পরিবর্তন খেয়াল করবেন-
ওভারিয়ান ক্যানসারের সঙ্গে পিঠে ব্যথা, দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি, অকারণে ওজন কমে যাওয়া, যৌনমিলনের সময় ব্যথা এবং মাসিকের ধরনে পরিবর্তন বা অস্বাভাবিক যোনিপথে রক্তপাতও দেখা যেতে পারে।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এই উপসর্গগুলোর কোনোটিই দেখলেই যে ওভারিয়ান ক্যানসার হয়েছে, এমন নয়। একই ধরনের সমস্যা অনেক সাধারণ ও নিরীহ কারণেও হতে পারে।
তবে উপসর্গগুলো যদি আপনার স্বাভাবিক অবস্থার তুলনায় নতুন হয়, বারবার হয়, কয়েক সপ্তাহ ধরে থাকে বা ক্রমশ বাড়তে থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটিও নিয়মিতভাবে কয়েক সপ্তাহ ধরে থাকা এসব উপসর্গ চিকিৎসককে জানানোর পরামর্শ দেয়।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, বর্তমানে সাধারণ ঝুঁকির নারীদের জন্য এমন কোনো নির্ভরযোগ্য নিয়মিত স্ক্রিনিং পরীক্ষা নেই, যা নিশ্চিতভাবে প্রাথমিক পর্যায়ের ওভারিয়ান ক্যানসার শনাক্ত করতে পারে। তাই নিজের শরীরের নতুন ও স্থায়ী পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতন থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
পেট ফাঁপা মানেই ক্যানসার নয়। কিন্তু বারবার হওয়া অস্বাভাবিক উপসর্গকে শুধু ‘গ্যাস’ ভেবে মাসের পর মাস এড়িয়ে যাওয়াও ঠিক নয়। শরীরের ছোট পরিবর্তনগুলো খেয়াল করুন, প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
তথ্যসূত্র: ন্যাশনাল ক্যানসার ইনস্টিটিউট, আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটি